রাজ্য

‘আমি শুধু নামেই মেয়র, ঢাল-তলোয়ার নেই’, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর, তবে কী সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে দ্বন্দ্ব?

বিধাননগরে বেআইনি নির্মান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানান ক্ষোভ রয়েছে। যে পরিমাণ অভিযোগ এই নিয়ে জমা পড়ে, সেই অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এই নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলেও ক্ষোভ জারি করেছেন খোদ বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। এবার পুরসভার বৈঠকে নিজেকে ঢাল-তলোয়ারহীন মেয়র বললেন তিনি।

পুরসভা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সোমবারের বৈঠকে জাল নকশার মাধ্যমে নির্মাণ ও সরকারি জমির উপরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরব হন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ নাগ। জয়দেব নস্কর পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে তারা বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পেয়েও উদাসীন। শুধু তাই-ই নয়, একটি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুলিশ ও পুরসভার কাছে তাঁর দায়ের করা অভিযোগের কাগজও বোর্ডের বৈঠকে জয়দেব দেখিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বিধাননগর পুরসভার বাগুইহাটি-সাহাপাড়া এলাকায় একটি বহুতলের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে এক শ্রমিকের হাত কাটা যায় বলে খবর। সেখানে ছ’তলার দুটি টাওয়ার-বিশিষ্ট এই নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ সন্দিহান। জানা যাচ্ছে, বিধাননগর পুর এলাকা রাজারহাটে এমন অনেক বহুতলের নকশার বৈধতা নিয়ে অনেকদিন ধরেই অনেক অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয়েছে বলে খবর।

গত সোমবারের বৈঠকে এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ ক্ষোভ জারি করেই মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, “আমি মেয়র, কিন্তু ঢাল-তলোয়ার নেই। লোকবল নেই। আপনারাই বলুন কী ভাবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে”। তিনি আরও বলেন, “কাউন্সিলরেরা না বললেও কোনও অভিযোগ পেলে সব সময়েই পুরসভা ব্যবস্থা নেয়”।

অন্যদিকে, বোর্ডের বৈঠকে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশের কথা স্বীকার করে জয়দেব নস্কর বলেন যে তাঁর ওয়ার্ডে সরকারি জমির উপরেই বেআইনি ভাবে নির্মাণ হয়েছে। তাঁর কথায়, “পার্কের জমির উপরে নির্মাণের কাজ হচ্ছে প্রায় দু’বছর ধরে। পুলিশ ও পুরসভা, দু’জায়গাতেই জানিয়েছিলাম। বোর্ডের বৈঠকে সেই কাগজও দেখিয়েছি। কিন্তু নির্মাণ বন্ধ হয়নি”।

এদিন প্রসেনজিৎ নাগও বলেন, “জাল নকশায় তৈরি বহুতলে রাজারহাট ছেয়ে গিয়েছে। ক্রেতারা ফ্ল্যাট কিনে রেজিস্ট্রি করলেও মিউটেশন করাতে পারছেন না। পুরসভার কোনও আয় হচ্ছে না। আগামী দিনে এর ফল পুরসভাকেই ভুগতে হবে। বোর্ডের বৈঠকে সব দিকটাই তুলে ধরেছি”। জাল নকশার মাধ্যমে হওয়া বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুলিশি হস্তক্ষেপ দাবী করেন প্রসেনজিৎ।

সূত্রের খবর, চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত বৈঠকে দাবী করেছেন যে তিনি যখন মেয়র ছিলেন, সেই সময় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড-সহ আরও নানান জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানান তিনি। সব্যসাচী এদিন বলেন, “দুই কাউন্সিলর জাল নকশা, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে তাঁদের বক্তব্য পেশ করে পুরসভার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মেয়রও অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন”।

Related Articles

Back to top button