রাজ্য

প্রাইমারি টেটে নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি যেতে পারে সাড়ে ১৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের

বর্তমানে টেট নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গোটা রাজ্য কার্যত সরগরম। এই মামলায় সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে। আদালতের নজরদারিতেই চলবে এই তদন্ত। আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবার রাজ্য সরকার দ্বারস্থ হয়েছে ডিভিশন বেঞ্চে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই মামলায় ২৬৯ জনের চাকরি বাতিল করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবগে সেই সংখ্যাটা আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত বুধবার প্রাথমিক শিক্ষক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই আধিকারিকদের নিয়ে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচারপতির বলেন, তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিবিআই এবং পর্ষদের রিপোর্ট দেখেছেন। আর তাতে বেশ স্পষ্ট যে বেছে বেছে নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট।

প্রাথমিক রিপোর্ট দেখে ২৬৯ জনের চাকরি বরখাস্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালে অফলাইনে যে টেট হয়, তাতে ২৭১ জনকে বাড়তি ১ নম্বর করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পর্ষদের তরফে বলা হয়েছে যে সেই বছর প্রশ্নপত্র ভুল আসার কারণে ২,৭৮৭ জন বাড়তি নম্বরের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সেখানে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

বলে রাখি, ২০১৪ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আর সেই পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবরে। আর ফলপ্রকাশ হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই বছরই প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ হয়। আর ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা। এই নিয়োগে প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে থেকে নিয়োগ করা হয় ৪২ হাজার প্রার্থীকে।

অতিরিক্ত প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়াই ছিল বেআইনি ভাবে দ্বিতীয় প্যানেল প্রকাশ করার উদ্দেশ্য। ওই দ্বিতীয় তালিকা থেকেই ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আর আদালতের নজরদারিতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। জানা যাচ্ছে, ৪২ হাজারের মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার শিক্ষককে বেআইনিভাবেই নিয়োগ করা হয়েছে।

এই টেট নিয়োগে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে প্রভাবশালী নেতারাও যুক্ত বলে দাবী করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসও। এক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মামলায় আরও প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক চাকরি খোয়াতে পারেন। এবার দেখার পালা এই তালিকায় কে কে রয়েছেন!

Related Articles

Back to top button