সব খবর সবার আগে।

দোষ করলেন পঞ্চায়েত প্রধানরা আর ত্রাণ দুর্নীতিতে শোকজের চিঠি পেলেন বিডিওরা!

এ যেন উল্টা বুঝলি রাম! ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির কাজে অভিযুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানরা। কিন্তু শাস্তির খাঁড়া নামল সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার বা বিডিওদের উপর। সচিবদের পর এবার সরকারের কোপে পড়লেন বিডিওরা। ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের ৫ বিডিওকে শো কজ করল নবান্ন। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরবর্তীতে ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার তৃণমূল। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পিছু কুড়ি হাজার টাকা করে ত্রাণ দেওয়ার জন্য যে ঘোষণা রাজ্য সরকার করেছিল তা অধিকাংশ জায়গায় মানা হয়নি বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েত প্রধানরা তাদের পছন্দের লোকেদের এই টাকা পাঠিয়েছে তাও সেই পরিবারের চারজন লোক থাকলে ৮০ হাজার টাকা তারা পেয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজ্য সরকার বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। সরকারের দাবি, আমফানের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ বণ্টনে স্বজনপোষণ ও কারচুপি করেছেন তাঁরা। ত্রাণ পেয়েছেন বিডিও ও পঞ্চায়েত ঘনিষ্ঠরা। এক্ষেত্রে স্বজনপোষণের জন্য সরাসরি বিডিওদের দিকে আঙুল তুলেছে নবান্ন। আর তাই শুধুমাত্র বিডিওরাই শোকজের নোটিশ পেয়েছেন।

তবে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর স্বভাব এই রাজ্য সরকারের নতুন না। গত এপ্রিলে শাসকদল তৃণমূল ও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তখন খাদ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রের কাছে মৃতের সঠিক তথ্য পাঠিয়ে দেওয়ায় অপসারণ করা হয় রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমারকে।

সম্প্রতি আমফানের ত্রাণ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকায় হুগলির গরলগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিংকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। কিন্তু বাকি অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিডিওদেরকে শোকজ করার নির্দেশ রাজ্য সরকারের খামখেয়ালিপনারই প্রমাণ দেয়, তাই নয় কি?

You might also like
Leave a Comment