রাজ্য

পাঁচিল দেওয়া নিয়ে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে ঝামেলা, ‘শায়েস্তা’ করতে গৃহবধূর স্নানের ভিডিও ভাইরাল করে দিল প্রতিবেশী

পাঁচিল দেওয়া নিয়ে দিউও প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল বিবাদ। সেই বিবাদ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এরই মাঝে এক পরিবারকে শায়েস্তা করতে অন্য এক পরিবারের গৃহবধূর স্নানের দৃশ্য ভিডিও করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিল অন্য এক প্রতিবেশী। ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া থানার কুলগাছিয়া এলাকায়।

মনে করা হচ্ছে, বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই এই কুকীর্তি ঘটিয়েছে ওই প্রতিবেশী। গত শনিবার হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই গৃহবধূর পরিবার। প্রতিবেশী বাপন হাজরা, তারক হাজরা ও সুকেশ হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রের খবর, একটি পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারকদের সঙ্গে বিবাদ চলছিল ওই গৃহবধূর পরিবারের। অভিযোগ, ওই গৃহবধূর পরিবারকে শায়েস্তা করতে তারক ওই গৃহবধূর স্নানের দৃশ্য মোবাইলের ক্যামেরাবন্দি করে। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয় সে।

প্রথমের দিকে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু জানতেই পারেন নি ওই গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তবে সপ্তাহখানেক ধরে ওই গৃহবধূ হঠাৎই লক্ষ্য করেন যে তিনি রাস্তায় বের হলেই এলাকার ছেলেমেয়েরা তাঁর দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে। কেউ কেউ মুচকি হাসছে।  এমনকী, অনেক মহিলাও মুখ ঢেকে হাসাহাসি করছে ও কিছু বলাবলি করছে।

কৌতূহলবশত একদিন ওই ছেলেমেয়েদের থেকে বিষয়টি জানতে চান ওই গৃহবধূ। এরপরই মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে তাঁর। জানতে পারেন যে তাঁর স্নানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ক্ষোভে, লজ্জায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই ভিডিও তাঁর ছেলের হাতেও এসে পৌঁছয় বলে জানা যায়।

এরপরই এই বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন তারা, গোটা বিষয়টি জানতে পারেন। শেষে গত শনিবার এই বিষয় নিয়ে সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ওই গৃহবধূ। তাঁর দাবী, “তারকরা আমাদের সায়েস্তা করতে ও আমার সম্মানহানি করতে লুকিয়ে স্নানের দৃশ্য মোবাইলবন্দি করে। তারপর তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”।

Related Articles

Back to top button