রাজ্য

এবার দিঘা বা মন্দারমনিতে ঘোরার জন্য আর টোটো বা গাড়িচালকদের উপর নির্ভর নয়, প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল প্রশাসন

দেশের নানান জায়গার পর্যটন কেন্দ্রেই ঘুরতে যাওয়ার জন্য নানান প্রশিক্ষিত টুরিস্ট গাইড থাকেন যারা সেই সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে নানান সম্যক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি সেই জায়গা সম্পর্কে নানান তথ্য আমাদের দেন। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একাধিক টুরিস্ট স্পষ্ট থাকলেও, সেই সব জায়গায় এতদিন পর্যন্ত কোনও প্রশিক্ষিত টুরিস্ট গাইড ছিল না।

তবে এবার প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নানান পর্যটন কেন্দ্রে দেখা মিলবে প্রশিক্ষিত টুরিস্ট গাইডদের। এই টুরিস্ট গাইডরা পর্যটকদের নানান জায়গা সুন্দর ভাবে গাইড করে দেখাবেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটন কেন্দ্র দিঘা তো বটেই, এছাড়াও মন্দারমনি, তাজপুর ও শঙ্করপুর-সহ আরও নানান পর্যটন কেন্দ্রে এবার মিলবে টুরিস্ট গাইড।

এবার আর পূর্ব মেদিনীপুরের নানান পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের দিশাহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে হবে না। এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর, পাঁশকুড়ার ক্ষিরাইয়ের ফুলবাগান থেকে শুরু করে ময়নার রাজবাড়ি, তমলুক, মহিষাদল হলদিয়া, গেঁওখালি, পটাশপুর, ভগবানপুর, খেজুরি, দরিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা-সহ জেলার সব দর্শনীয় স্থানে পর্যটকরা চাইলেই মিলবে প্রশিক্ষিত টুরিস্ট গাইড। এবার এই সমস্ত স্থানে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকদের উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে আর ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

এই টুরিস্ট গাইডরা নানান দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি সেই সমস্ত জায়গার নানান তথ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাবেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নানান পর্যটন কেন্দ্র ও সমুদ্র সৈকত পর্যটন কেন্দ্রগুলি নিয়ে টুরিস্ট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য পর্যটন দফতরের। আর সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে এই টুরিস্ট গাইড আনার ভাবনাচিন্তা করেছে রাজ্য পর্যটন দফতর।

জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় মোট পাঁচটি ব্যাচে ১৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বছরের গোটা সময়ই দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনিতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে সমুদ্রসৈকত ছাড়া সেখানে আর কী কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে, সে সম্পর্কে অনেকে জানলেও, সেখানে কীভাবে ঘুরবেন, তা স্থির করে উঠতে পারেন না অনেকেই।

আর নানান দর্শনীয় স্থানে যেতে পর্যটকদের নির্ভর করতে হয় নানান টোটোও রিক্সাচালকদের উপর। তাদের নির্দেশেই নানান স্থানে ঘোরেন পর্যটকরা। তবে সেটা বিশেষ সুখকর হয়না সকলের জন্য। কিন্তু সঙ্গে যদি একজন প্রশিক্ষিত গাইড থাকেন, তাহলে নানান স্থান নির্ঝঞ্ঝাটে ঘুরে বেড়ানো যায়।

জানা যাচ্ছে, এই গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ৪৮ দিনের জন্য। এই প্রশিক্ষণের বেশিরভাগটাই হবে হাতেকলমে। প্রশিক্ষণরত ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হবে যে নানান পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিয়ে গিয়ে কীভাবে তাদের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বোঝাবেন বা সকলের সঙ্গে কীভাবে তারা কথা বলবেন, সেই বিষয়ে।

Related Articles

Back to top button