রাজ্য

নির্বাচনে হারের পর, সত্যিই কি অশান্তি চলছে বিজেপির অন্দরে? দু-একজন গেলে কিছু যায় আসে না মন্তব্য দিলীপের

বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী অবস্থায় ফের টালমাটাল অবস্থা বিজেপির। যে সংগঠনকে জোরদার করতে নির্বাচনের আগে হত্যে দিয়ে পড়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা সেই দলই এবার নিজের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়ের স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পর থেকেই অভিষেকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বাবা মুকুলের গলাতেও বিজেপি বিরোধী আওয়াজ।

আরও পড়ুন- বিজেপির গ্রুপ থেকে প্রস্থান সৌমিত্রর, তৃণমূলে স্বাগত জানালেন সুজাতা! তবে কী এবার স্ত্রীয়ের হাতই ধরবেন সৌমিত্র? 

এই অবস্থায় গুঞ্জন উঠেছে রাজ্যের বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদ গেরুয়া শিবির ত্যাগ করতে পারেন। যেমন বিজেপি জেলা মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গেছেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ। এমনকি, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিংও এড়িয়ে যান তিনি, এমনটাই শোনা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সৌমিত্র দাবি করে জানিয়েছেন, লকডাউনকে মান্যতা দিতেই এমনটা করেছেন তিনি।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন অর্থাৎ শনিবার বিষ্ণুপুরের সাংগঠনিক সভার পর মুখ খুললেন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুন-‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতিতে কি সীলমোহর পড়বে আজ? প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকের আগে তুঙ্গে জল্পনা

বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ দাবি করে জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কোনও সুর-বেসুর নেই। দলের ১৬৭ কর্মী প্রাণ দিয়ে দলকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। এঁরাই আমাদের দলের সম্পদ।অনেকে শুধুমাত্র সুযোগ-সুবিধা নিতে দলে এসেছিলেন। সুযোগ পাননি তাই চলে যাচ্ছেন।

এর পরেই একরোখা, দাপুটে এই নেতার দাবি একজন, দুজন চলে গেলে কিছু যায় আসে না। হাজার লোক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা এখন‌ও পর্যন্ত দলের সঙ্গেই রয়েছেন l

সেই সঙ্গে সম্প্রতি ওঠা গুঞ্জনকে অবদমিত করে তিনি বলেন, অনেকে ভেবেছিলেন বিজেপি জিতে যাবে। সেই আশায় এসেছিলেন। এখন বিজেপি জিততে পারেনি বা নিজেরা জিততে পারেননি। তাই তাদের এখন অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু বিজেপি  সকলকে সম্মান দিয়েই দলে নিয়েছিল।

এদিনের সাংগঠনিক বৈঠকে বিষ্ণুপুরে দলের সঙ্গে সৌমিত্র’র না থাকা এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়া প্রসঙ্গে  রাজ্য বিজেপি সভাপতি জানান, উনি অন্য কোনও কাজে রয়েছেন। ওঁর সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি থাকেন।

আমাদের দল ছেড়ে এখন‌ও কেউ যাচ্ছে না। বাংলায় নির্বাচনের পর আমাদের ৩৭ জন কর্মী মারা গিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ এখন‌ও পর্যন্ত ঘরছাড়া। এসব নিয়েই আমরা ও আমাদের কর্মীরা ব্যাস্ত রয়েছি।

এই সময় দলের সবার সবাইকে প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মান অভিমান প্রকাশ করার উপযুক্ত সময় এটা নয়! এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই কি মুকুল রায়কে  কোন‌ও বার্তা দিলেন দিলীপ?

 

Related Articles

Back to top button