সব খবর সবার আগে।

মানতে হবে বিধিনিষেধ, দুর্গাপুজোর ১৩ দফা গাইডলাইন প্রকাশ করল নবান্ন

শরৎ এসে গিয়েছে অথচ দুর্গাপুজো হবে না তা তো হয় না। এই সময়ই তো বাঙালির প্রাণের উৎসবের সময়, সারা বছরের এই পাঁচটা দিনের অপেক্ষাতেই তো তাকিয়ে থাকে বাঙালি। কিন্তু এবারে বিধিবাম করোনাভাইরাস। চীনা ভাইরাসের চক্করে আমাদের সাধারণ জীবনযাপন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। তবুও দুর্গা পুজোতে আনন্দ করবো না তা হয় না, ওইসব দিক মাথায় রেখে সম্পূর্ণ সুরক্ষা বিধি মেনে পুজো করার জন্য নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করল নবান্ন। যেখানে সরকারিভাবে ১৩ দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে যা মেনে চলতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে-

১. মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশানুসারে পুজোর প্যান্ডেল এবার আবদ্ধ রাখা যাবে না। খোলা মাঠে পুজোর আয়োজন করতে হবে। মণ্ডপের চারদিক খোলা রাখতে হবে। মণ্ডপ ঘেরা হলে ছাদ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক।

২. একটি গেট নয়। মণ্ডপে ঢোকা বেরনোর পৃথক গেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তৃতীয়া থেকেই ঠাকুর দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

৩. স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে মাস্ক পরে মণ্ডপে ঢুকতে হবে। মাস্ক পরে যদি কোন দর্শনার্থী না আসেন প্রয়োজনে তাঁকে মাস্ক দিতে হবে পুজো কমিটিকেই।

৪. পুজো কমিটিকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্যানিটাইজ করতে হবে প্যান্ডেল।

৫. যাতে গাদাগাদি না হয় তাই মণ্ডপে ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাঁদের ক্ষেত্রেও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

৬. দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ অঞ্জলি দেওয়া এবং সিঁদুর খেলা। এবার তাই প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানই আয়োজন করতে হবে সামাজিক দূরত্বকে বজায় রেখে।

৭. দুর্গাপূজার যেকোন‌ও দিনের পুষ্পাঞ্জলির ফুল – বেলপাতা নিয়ে যেতে হবে বাড়ি থেকে। মণ্ডপ থেকে তা বিলি করা চলবে না।

৮. ভক্তরা যাতে দূরে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে পুষ্পাঞ্জলী দিতে পারেন তার জন্য পুরোহিতকে অঞ্জলির মন্ত্র লাউড স্পিকারে পড়তে হবে।

৯. পুজো মণ্ডপ বা তার আশেপাশে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা চলবে না। পুজোর পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২টি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পুরস্কার বিতরণ সারতে হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে।

১০. পুজো কমিটিগুলিকে সাউন্ড সিস্টেমে করোনা বিধি সম্পর্কে লাগাতার প্রচার চালাতে হবে।

১১. পুজোর উদ্বোধন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রেও বেশি লোক একত্র করা যাবে না। প্রতিমা বিসর্জনের আগে জানাতে হবে স্থানীয় থানাকে।

১২. পুজোর অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে অনলাইনে। বাংলার জগৎ বিখ্যাত দুর্গাপুজো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু করা দুর্গাপুজোর কার্নিভাল উক্ত করোনা পরিস্থিতির কারণে এই বছরের মতো বাতিল করা হয়েছে। ফলে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে উদ্যোক্তাদের।

১৩. এই বছরের জন্য দমকল ও পুর কর দিতে হবে না পুজো কমিটিগুলিকে। সঙ্গে অনুদান হিসাবে মিলবে ৫০ হাজার টাকা।

You might also like
Comments
Loading...
Share