রাজ্য

রক্ষীবিহীন লেভেল ক্রসিং, লাইনে আটকে পড়া মারুতিতে সজোরে ধাক্কা পাঁশকুড়া লোকালের, একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-যাত্রীরা

লেভেল ক্রসিংয়ে নেই কোনও রক্ষী। ঘটল বড়সড় দুর্ঘটনা। লাইনে আটকে পড়া মারুতিতে সজোরে ধাক্কা লোকাল ট্রেনের। বরাত জোরে প্রাণে বাঁচলেন গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটেছে তমলুক রেল স্টেশন লাগোয়া তমলুক পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপানেড়িয়া রেলওয়ে ক্রসিংয়ে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া থেকে আসছিল পাঁশকুড়া লোকাল। এই সময় একটি মারুতি গাড়ি লাইন পার করছিল। কিন্তু রাস্তা থেকে রেলপথ একটু উপরে হওয়ার কারণে লাইন পার করতে একটু সময় লেগে যায় গাড়িটির। সেই লেভেল ক্রসিংয়ে ছিল না কোনও গার্ড। এমন সময় লাইনেন আটকে পড়ে গাড়িটি।

ট্রেন আসতে দেখেই বুদ্ধি করে গাড়ি থেকে নামে যান চালক ও যাত্রীরা। হাত দেখিয়ে ট্রেনটি থামানোর চেষ্টা করেন গাড়ির চালক। ট্রেনের চালকও চেষ্টা করেন ট্রেনটি থামাতে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক যাত্রী থাকায় ও ট্রেনের গতিবেগ অনেকটা বেশি থাকার কারণে ট্রেনটি থামাতে ব্যর্থ হন চালক।

এর জেরে লাইনে আটকে পড়া মারুতিতে সজোরে ধাক্কা মারে লোকাল ট্রেনটি। তবে চালক ও যাত্রীরা আগের থেকেই গাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পর পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীরা।

এই ঘটনার পর এক এলাকাবাসী বলেন, “পাঁশকুড়া লোকাল এসে একটি মারুতি গাড়িকে ধাক্কা মেরেছে।এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন অনেক গ্রামের প্রায় কুড়ি-তিরিশ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। আমরা এলাকাবাসী যদি রাস্তা ঠিক করি তাহলে রেল দফতরের লোক এসে রাস্তা খুঁড়ে দিয়ে চলে যায়। আমরা বারবার ধরে জানানোর পরও রাস্তার কাজ হয়নি। রেলগেট হয়নি।যতক্ষণ না আমাদের এই সুরাহা হয় আমরা অবরোধ করে যাব। এই গাড়িটি আমরা ততক্ষণ নামাতে দেব না। আগে আমাদের লিখিত দরখাস্ত দিতে হবে।তারপর আমাদের অবরোধ উঠবে। আজকে বড়সড় দুর্ঘটনা হতে পারত। কিন্তু হল না। বুদ্ধি করে গাড়ি থেকে চালক ও যাত্রী আগেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে যে এমন ঘটনা আর ঘটবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে”?

Related Articles

Back to top button