রাজ্য

‘অর্পিতাকে চিনি না, নাকতলার পুজোতে দেখেছি শুধু’, ইডি-র জেরায় অর্পিতার সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেন পার্থ

এসএসসি দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে অর্পিতা মুখপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পার্থ-অর্পিতা এখন চর্চায়। অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। অর্পিতার সঙ্গে যে পার্থর সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ, তা বেশ স্পষ্ট। কিন্তু এবার ইডি-র জেরায় অর্পিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অস্বীকার করে পার্থ বললেন যে তিনি অর্পিতাকে তেমনভাবে চেনেন না।

গতকাল, বৃহস্পতিবার পার্থ ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে ইডি। ইডির তরফে পার্থকে প্রশ্ন করা হয় যে তিনি অর্পিতাকে চেনেন কী না! এর উত্তরে তিনি জানান, “না তেমনভাবে চিনি না”। ইডির পালটা প্রশ্ন তাহলে কীভাবে চেনেন? পার্থ বলেন, “অনেকেই আসেন আমার কাছে। তাই দেখেছি। নাকতলার পুজোতেও দেখেছি”।

পার্থকে দিন এও প্রশ্ন করা হয় যে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে এত টাকা উদ্ধার হয়েছে, তিনি সেই বিষয়ে জানেন কী না। পার্থর উত্তর, “শুনেছি, তবে ওই টাকা আমার নয়”। পার্থর মুখে এমন জবাব শুনে ইডি নিশ্চিত যে তিনি তথ্য লুকোনোর চেষ্টা করছেন।

শান্তিনিকেতনে পার্থ ও অর্পিতার বাড়ি রয়েছে, নাম ‘অপা’। অনুমান তাদের নামের আদ্যক্ষর দিয়েই এই বাড়ির নামকরণ। ২০১২ সাল থেকে যৌথভাবে ব্যবসা করছেন পার্থ-অর্পিতা। এর ব্যালান্স শিট করা হয়েছে প্রতি বছর। অর্পিতার সমস্ত ইনস্যুরেন্সের নমিনি হলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পার্থ কীভাবে অর্পিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অস্বীকার করছেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ইডি-র মতে, পার্থ তথ্য লুকোনোর চেষ্টা করছেন। তাই এমন কথা বলে তদন্তকে ভুলপথে চালনা করছেন।

এই ঘটনায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “টালিগঞ্জ থেকে বেলঘরিয়া কার সঙ্গে কীভাবে যোগ, সবাই জানে। এভাবে বাঁচা যাবে না। তদন্ত প্রভাবিত করার প্রয়োজন নেই”। অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “তদন্ত চলছে। পার্থ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সবটা জানিয়েছেন। সেখানে তদন্তের মাঝে পার্থ কী বলছেন। তা নিয়ে কিছু বলার যুক্তি নেই”।

Related Articles

Back to top button