রাজ্য

তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ তুঙ্গে, ‘কারও স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত হবে না’, রবীন্দ্রনাথকে হুঁশিয়ারি পার্থর

এককালে তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের হাত ধরেই তৃণমূলে প্রবেশ করেন পার্থপ্রতিম রায়। কার্যত, রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই পার্থর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের স্নেহছায়াতেই রাজনীতিতে অনেকটা এগিয়ে যান পার্থ। একসময় জেলার রাজনীতিতে তারা মূলত কাকা-ভাইপো নামেও পরিচিত ছিল। তবে সে সম্পর্ক বেশিদিন টেকে নি।

সেই বিরোধ এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে সভার মধ্যেও একসময়ের রাজনৈতিক গুরুকে শানাতে বাদ যাচ্ছেন না পার্থ। সরাসরি রবীন্দ্রনাথকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন পার্থ। এর জেরে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

দলীয় সূত্রের খবর, রবিবার তুফানগঞ্জের কমিউনিটি হলে দলের একটি সভা ছিল। এই জায়গাটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নির্বাচনী কেন্দ্র নাটাবাড়ির মধ্যে। এই কেন্দ্র থেকেই এবার ভোটে হেরেছেন তিনি। এই নাটাবাড়িতে দাঁড়িয়েই কার্যত জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে নিশানা করে হুঁশিয়ারি শানালেন বর্তমান জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়।

আরও পড়ুন- খোয়াই থানায় অভিষেকের অন্য রূপ, অবশেষে তৃণমূলের ১৪ নেতাকে জামিন দিল ত্রিপুরা আদালত

পার্থপ্রতীম রায় এদিন বলেন, “কারও বাড়ি থেকে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনার চেষ্টা হলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। দলের গাইডলাইন মেনে, সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালন করতে হবে”।

এর পাশাপাশি তিনি এও মনে করিয়ে দেন, “গত ২২ বছর ধরে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জেলা সভাপতির পদে ছিলেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র জেলার বাইরে। জেলা সভাপতি কোনও দলীয় কর্মসূচি এখন নিতে পারবে না। কারও স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত হবে না”। এক কথায় সরাসরি হুঁশিয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে।

কিন্তু হঠাৎ কী এমন হল যে পার্থ এভাবে সুর চড়ালেন?

দলের একাংশের মতে, জেলার নানান প্রান্তে নানান কর্মসূচী পালন করার উদ্যোগ নিয়েছেন পার্থপ্রতিম। নাটাবাড়িতেও নানান কর্মসূচী পালন করতে উদ্যোগী তিনি। কিন্তু এখানে কর্মসূচী পালনে কিছু বাধার মুখে পড়েন তিনি। এর কারণেই রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন পার্থ, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেন নি।

Related Articles

Back to top button