সব খবর সবার আগে।

অসাধ্য সাধন পুলিশের! ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে উত্তরপাড়া ব্যাঙ্ক ডাকাতির কিনারা। চুঁচুড়া থেকে গ্রেফতার মাস্টার মাইন্ড!

হুগলির উত্তর পাড়ায় দিনেদুপুরে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার রাজেন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের শাখা থেকে নগদ আঠেরো লক্ষ টাকা লুট করে বাইকে চম্পট দিয়েছিল তিনজন দুষ্কৃতী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চব্বিশ ঘণ্টার‌ও কম সময়ে ঘটনার কিনারা করে ফেলল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। বমাল সমেত ধরা পড়ল ডাকাতদল। উদ্ধার হয়েছে টাকা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রও।

নিরাপত্তারক্ষীর বালাই নেই, ঢোকার মুখে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও নেহাত‌ই দুর্বল। কর্মীও হাতে গুনে চার-পাঁচটা। ডাকাতির আদর্শ সময়। সুযোগ বুঝেই রে রে করে ঢুকে পড়ল ডাকাতদল। কার্যত বিনা বাধায় ব্যাঙ্কে ঢুকে স্বমূর্তি ধারণ করে দুষ্কৃতীরা। ম্যানেজারের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লুট করা হয় নগদ আঠেরো লক্ষ টাকা। এরপর ম্যানেজার-সহ ব্যাঙ্কের কর্মীদের একটি ভল্টে আটকে রেখে চম্পট দেয় সকলেই। বাইকে করে পালানোর সময়ে আবার ব্যাঙ্কের কাছে রাস্তায় একগুচ্ছ নোট পড়েও যায়। তাই দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা বুঝতে পারেন কি ঘটে গেছে !

ডাকাতদের কাঁধে ছিল গামছা, মুখে ঢাকা ছিল রুমালে। কীভাবে ব্যাঙ্ক ডাকাতির কিনারা করল পুলিশ? চন্দনগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ডাকাতি করার পর উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী এলাকায় একটি জঙ্গলে টাকা ভাগ করার জন্য জড়ো হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। নেতৃত্বে শ্রীরামপুরের ডিসি ঈশানী পাল। গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয় পাসোয়ান, তাপস দাস ও সঞ্জীব পাসোয়ান নামে তিনজনকে। তাঁদের জেরা করে প্রীতম ঘোষ ওরফের দেবজিৎ নামে আরও এক দুষ্কৃতীর নাম জানা যায়। চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরা পড়ে যায় সে-ও। তার কাছ থেকে নগদ ১০ লক্ষ ৮ হাজার টাকা পাওয়া যায় গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র।

জানা গিয়েছে, বছর ছয়েক আগে ওড়িশায় পেট্রল পাম্পে ডাকাতির ঘটনায় প্রীতমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেল থেকে পালিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতী। এর আগে এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দশ থেকে বারোটি ডাকাতি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রীতম। লকডাউনের মাঝে বিহার থেকে সাইকেল চালিয়ে সে চলে আসে হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরে।

You might also like
Leave a Comment