রাজ্য

‘তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালই খুন করিয়েছেন’, বিচারের দাবীতে সিবিআই দফতরের সামনে আমরণ অনশনে ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত অভিজিৎ সরকারের দাদা

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসার নানান ঘটনা ঘটে। ২রা মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরদিনই বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের উপর হামলা করা হয়। সেদিনই মৃত্যু হয় তাঁর। সেই মৃত্যু নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তভার সিবিআইয়ের উপর দেয় আদালত। কিন্তু অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার সেই তদন্তে মোটেই খুশি নন।

অভিজিতের পরিবার ও দাদার দাবী, তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে না। তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর সঙ্গে শাসকসদলের প্রভাবশালী নেতারা জড়িত। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সিবিআই কেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকছে না, সে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। এবার ভাইয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার চেয়ে সিবিআই দফতরের সামনে আমরণ অনশনে বসলেন বিশ্বজিৎ সরকার।

আজ, শনিবার সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘বিচার চাই’। এর পাশাপাশি  এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবীও তুলেছেন তিনি। বিশ্বজিতের কথায়, তাঁর ভাইকে খুন করিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল ও কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার।

বিশ্বজিতের দাবী, সিবিআইয়ের কাছে পরেশ পাল ও স্বপন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্য রয়েছে, কিন্তু তাও সিবিআই কেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকছে না? তিনি এও জানান যে সিবিআইয়ের উপর তাঁর বিশ্বাস রয়েছে, কিন্তু তদন্ত কেন ঠিকমতো হচ্ছে না, তা জানার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। তাঁর স্পষ্ট কথা, যতক্ষণ না তিনি নিজের উত্তর পাচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি এভাবেই সিবিআই দফতরের সামনে আমরণ অনশন করবেন।

এর আগেও ভাইয়ের মৃত্যুর তদন্তের দাবীতে একাধিকবার সরব হয়েছেন বিশ্বজিৎ সরকার। কখনও তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন শিয়ালদহ কোর্টের তো আবার কখনও কলকাতা হাইকোর্টে। সিবিআই এই মৃত্যুর তদন্তভার নেওয়ার পর বিশ্বজিৎ সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। কিন্তু এবার হয়ত সিবিআইয়ের উপর ক্রমে ভরসা হারাচ্ছেন বিশ্বজিৎ। এই কারণেই তাঁর এই অনশন প্রতিবাদ।

Related Articles

Back to top button