রাজ্য

বিয়ে হচ্ছে না, সমস্যার সমাধানে লাগবে নাবালিকার রক্ত, চকোলেটের লোভ দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণ করল গৃহশিক্ষক

দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। এদিকে বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। তান্ত্রিক বলেছিলেন যে এই সমস্যার সমাধানের জন্য লাগবে কোনও নাবালিকার রক্তবস্ত্র। সেই কারণে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণ করলেন গৃহশিক্ষক।

ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের বিষ্ণুপুরের বনমালীপুরে। অভিযুক্ত ওই গৃহশিক্ষকের নাম সবুজ দে। তান্ত্রিকের নাম গুরুপদ মাঝি। জানা গিয়েছে, বেলিয়াতোড়ের নারায়ণগঞ্জের মাঝিপাড়ায় এক মনসা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানান তুকতাকের কাজ করেন ওই তান্ত্রিক।

অভিযুক্ত সবুজ দে স্নাতক পাশ করে গ্রামেরই ছেলেমেয়েদের টিউশন পড়ান। ৩০ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে তার। বেশ কিছু মাস ধরেই বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনও সম্বন্ধ ঠিকই হচ্ছিল না। আত্মীয়দের মুখ থেকে গুরুপদ মাঝির কথা শুনে সেখানে যান তিনি। ওই তান্ত্রিক তাকে বলে যে এই সমস্যার সমাধান করতে অমাবস্যার রাতে মা মনসার পায়ে কোনও নাবালিকার রক্তবস্ত্র অর্পণ করতে হবে কারণ মা মনসা নাকি তার উপর রুষ্ট।

সেই কারণে কালীপুজোর রাতে ওই কাজ করবেন বলে মনস্থির করেন সবুজ। সেই কাজের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই নাবালিকাকে নিজের শিকার বানান তিনি। গত ২৩শে অক্টোবর বাকি ছাত্রছাত্রীদের ছুটি দিলেও ওই নাবালিকাকে আটকে রাখেন সবুজ। তারপর তাকে ধ’র্ষ’ণের তার রক্ত দিয়ে ভিজিয়ে নেন সাদা কাপড়।

রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। বাবা-মাকে সব কথা জানায় সে। তাকে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন ২৪শে অক্টোবর বিষ্ণুপুর থানায় নাবালিকার পরিবার ওই গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় সবুজকে। গতকাল, রবিবার তাকে আদালতে তোলা হলে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেয় আদালত। তার বিরদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই তান্ত্রিক গুরুপদ মাজিকেও। তাকে আজ আদালতে তোলা হতে পারে।

পুলিশের কাছে সব কথা স্বীকার করে নিয়েছে সবুজ। সে জানায় যে ওই নাবালিকাকে চকোলেট লোভ দেখিয়ে বাড়িতে আটকে রেখেছিল সে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ওই তান্ত্রিক অনেকদিন ধরেই ওই মনসা মন্দিরে তুকতাক, বশীকরণের মতো নানান কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। তার প্ররোচনাতেই ওই গৃহশিক্ষক নাবালিকাকে ধ’র্ষ’ণ করে।

Related Articles

Back to top button