রাজ্য

জল্পনার অবসান, শো-কজ করার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বিজেপি ছাড়লেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, ঘাসফুলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপি ত্যাগ করলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। আজ, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান যে দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে একই দলে কাজ করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এই ঘটনার জেরে তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা আরও প্রবল হল।

বিগত কয়েকদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে নানান মন্তব্য করছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। নাম না করেই দিলীপ ঘোষ ও দেবশ্রী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। বলেছিলেন, “এখানকার সাংসদ কখন আসেন, কখন যান আমরা কিছুই জানি না। এলাকার মানুষ প্রয়োজনে তাঁর দেখা পান না”। এরপরই দলের সমস্ত কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “জানানো প্রয়োজন তাই বলছি। যেখানে বিধায়কের সম্মান নেই, সেখান থেকে সরে যাওয়াই ভাল”।

বিধায়কের এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর দলবদলের জল্পনা আরও বেশি উস্কে উঠে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, “কৃষ্ণ কল্যাণী পার্টিতে নতুন এসেছেন। তাই সমস্ত নিয়মকানুন জানেন না। আস্তে আস্তে শিখে নেবেন”। কিন্তু এরপরও কোনও লাভ হয়নি।

আরও পড়ুন- রাজ্যে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে অজানা জ্বরের প্রকোপ, শ্বাসকষ্টে ভুগছে একাধিক শিশু, চিন্তায় চিকিৎসক মহল

এই সমস্ত ঘটনার পরই গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য কমিটির তরফে শো-কজ করা হয় কৃষ্ণকে। উত্তর দিনাজপুর জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার জানান যে বিধায়ককে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এদিকে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন যে তিনি কোনও আইনি নোটিশ পান নি। দল তাঁকে শো-কজ করার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই দলত্যাগ করলেন কৃষ্ণ।

বলে রাখি, গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতেই রায়গঞ্জ যান সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই কৃষ্ণ কল্যাণীকে শো-কজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। শুধু দলীয় কর্মীরাই নন, তাবড় তাবড় নেতারাও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে ভিড়ছেন। কিছুদিন আগেই পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে যোগ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

Related Articles

Back to top button