রাজ্য

অনলাইন গেমে হারান লক্ষ লক্ষ টাকা, অবসাদের জেরে শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করলেন রেলকর্মী

অনলাইন গেমের জেরে এর আগেও প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মানুষ। এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটল। স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন ব্যক্তি। স্ত্রী মৃত ভেবে সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ের গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে নিজের পাশের ঘরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলন এক রেলকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, রবিবার পুরুলিয়ার রেল শহর আদ্রার রেল আবাসনে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এই ঘটনার।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ওই রেল কর্মচারীর নাম অমরচন্দ্র মোদক, ও তার সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে অঙ্কিতা মোদক। ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী সে। কাশিপুরের সিমলা গ্রামের আদি বাসিন্দা দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করতেন অমরচন্দ্র মোদক। রেল কর্মচারীর সুবাদে আদ্রা রেল কোয়ার্টার্সে সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে, স্ত্রী ও মা-কে নিয়ে থাকতেন তিনি।

পরিবার সূত্রে খবর, শুধু কাজের ফাঁকেই নয়, দিনের অধিকাংশ সময়ই মোবাইলে গেম খেলতেন ওই রেল কর্মচারী। স্ত্রী নিষেধ করলে ঝামেলা হত। প্রথমদিকে মোবাইল অনলাইন গেমে লক্ষ লক্ষ টাকা জিতেছিলেন রেলকর্মী। সেই টাকা জেতার লোভেই ওই অনলাইন মোবাইল গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। 

এই গেম খেলাতে হারতে হারতে ১৫ লক্ষ টাকার ঋণ করে ফেলেছিলেন অমরচন্দ্রবাবু। তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব তাঁকে টাকা দিয়ে সাহায্যও করছিলেন। কিন্তু গেমের নেশা থেকে বেরোতে পারেন নি ওই ব্যক্তি। ফলে হারতে হারতে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে থাকে।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পাওনাদাররা তাঁর অফিসে গিয়েও হানা দিতেন। এই অপমান আর সইতে পারছিলেন না অমরচন্দ্রবাবু। তাই রবিবার সকালে বৃদ্ধা মা-কে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে পরিবারকে শেষ করে পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর স্ত্রী জানান, “এদিন তিনি একবারই ঘর থেকে বার হয়েছিলেন তার মাকে বাসে তুলতে। আদ্রা রেল হাসপাতালে ভরতি থেকে এমন কথাই বলছেন রেল কর্মচারীর স্ত্রী। ২৮ বছরের স্ত্রী জবা মোদক বলেন, “মোবাইলে মারাত্মকভাবে গেম খেলতো। প্রথমদিকে কয়েক লাখ টাকা জেতার পর হারতে শুরু করে। ঋণের বোঝা বাড়তে বাড়তে কয়েক লক্ষ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। সেই ঋণের বোঝা আমরা শোধ করতে পারছিলাম না। কিন্তু এভাবে ছোট্ট মেয়েটাকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হবে ভাবতেই পারছি না। আমাকে কেন বাঁচিয়ে রাখল? শেষ করে দিতে পারতো”।

তাঁর স্ত্রীর অনুমান, দুপুরে তাঁর খাবারের সঙ্গেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। তা খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর স্বামী ভেবেছিলেন যে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই হয়ত মেয়েকে মেরে নিজে আত্মঘাতী হন ওই ব্যক্তি। জ্ঞান ফিরতেই স্বামী ও মেয়ের মৃতদেহ দেখে আঁতকে ওঠেন ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি আবাসনের বাসিন্দাদের জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যক্তির স্ত্রীকে ভর্তি করা হয় আদ্রা রেল হাসপাতালে।

Related Articles

Back to top button