রাজ্য

‘আমার দল ছাড়ার শোক এখনও কাটাতে পারেননি’, কল্যাণের তোপের পাল্টা জবাব ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ রাজীবের

গতকাল, রবিবারই তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন প্রাক্তন বিধায়ক। এই নিয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীবকে তীব্র তোপ দেগেছেন। তাঁকে আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত বলে ভর্ৎসনা করেছেন। এবার এই প্রসঙ্গে কথা বললেন খোদ রাজীব।

তিনি যে এই বিষয়ে বেশ সাবধানী, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে। আজ, সোমবার ত্রিপুরা থেকে কলকাতা ফিরে রাজীব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক। তাঁর সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক। আমার দল ছাড়াটায় উনি এত দুঃখ পেয়েছিলেন সেই শোক এখনও তিনি ভুলতে পারেননি। তাই তিনি কিছু বক্তব্য রেখেছেন। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মত”।

শ্রীরামপুরের সাংসদ বেশ আক্ষেপের সুরেই বলেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যোগদান করিয়েছেন। আমাকে তা মেনে নিতে হবে। কিন্তু মমতাদি নির্বাচনের মিটিংয়ের সময় ডোমজুড়ে বলেছিলেন যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন-চারটে বাড়ি আছে গড়িয়াহাটে। তাঁর টাকার লেনদেন চলছিল দুবাইয়ে। তা সত্ত্বেও কেন তাঁকে নেওয়া হল তা শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে পারবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে দলের কোনও কর্মীর মনে আঘাত দিয়ে কোনও বিশ্বাসঘাতককে দলে ফেরত নেওয়া হবে না। আমিও এক জন দলের কর্মী। সাংসদ তো নিশ্চয়ই। তাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতাটা মনে পড়ছে। ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতাটা মনে পড়ছে। তৃণমূলে থাকতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা তো সবাইকে মেনে চলতে হবে। আমাকেও মেনে চলতে হবে। তবে আমি জানি না এরকম একটা টপ টু বটম দুর্নীতিগ্রস্ত একজন লোককে কেন দলে যোগদান করানো হল, আমি জানি না”।

এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য  নিয়ে রাজীব সেভাবে সুর না চড়ালেও, তিনি বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দলীয় নেতৃত্ব চেয়েছেন বলেই তিনি ফের দলে ফিরেছেন। এ নিয়ে অন্য কারোর বক্তব্য যে গুরুত্ব পাবে না, তাও বুঝিয়ে দেন তিনি।

রাজীবের কথায়, “দল যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জয়েন করানোর, সুতরাং সেটা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। আমি তাই ফিরেছি। আমি আশা করি এসব থাকবে না। সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল, আছে, থাকবে”

এরই সঙ্গে তৃণমূলে যোগদানের পর প্রথমবার কলকাতায় পা রেখে আবারও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমি আগেও মমতাদির ছবি হাতে নিয়ে বলেছিলাম আমার জীবনে যদি কারও অবদান থাকে তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাও বলেছিলাম যতদিন বেঁচে থাকব ওনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব, অনুগত থাকব। সম্মান জানাব। আমি জেদের বশে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম”।

Related Articles

Back to top button