রাজ্য

অগ্নিমূল্য মুরগির মাংসের দাম, চিকেন কেনাই এখন দুষ্কর মধ্যবিত্তদের জন্য, কেন এভাবে বেড়ে চলেছে মুরগির দাম?

এমন গরমের দিনে দুপুরে একটু পাতলা করে মুরগির ঝোল আর ভাত, আর নাহলে বৃষ্টির দিনে চা-সহযোগে একটু চিকেন পকোড়া, এসবেই তো মেতে মানুষ। কিন্তু এখন চিকেনের নাম শুনলেই মুখে জল আসার বদলে যেন চোখে জল আসছে। কারণ? চিকেনের আগুন দাম।

খাসির মাংসের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্তরা চিকেনের দিকেই ঝুঁকেছিল বেশি। কিন্তু সেই চিকেনের দামও যেভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্তের পাতে আদৌ কী পড়বে, তা নিয়ে বেশ চিন্তা। কিন্তু একন এভাবে লাফিয়ে বাড়ছে মুরগির মাংসের দাম?

লকডাউনের পর থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের কোপ পড়েছে। চাল, ডাল থেকে শুরু করে আটা, ভোজ্য তেলের দাম নিত্যদিনই বাড়ছে। এবার এই তালিকায় যোগ হয়েছে মুরগিও। রাজ্যে বাঁকুড়া জেলা রয়েছে মুরগি উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু সেখানেই গত কিছুদিনে মুরগির মাংসের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা প্রতি কেজি।

বাঁকুড়া জেলার মুরগি প্রতিপালকদের কথায়, গত কয়েক মাসে মুরগি প্রতিপালনের খরচ বেড়েছে। এই কারণেই মুরগির দামও চড়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মুরগি জন্মানোর পর ৪০-৪২ দিন রাখা হয় খামারে। প্রতিপালকদের কথা অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাংস উৎপাদনের জন্য খাবার প্রয়োজন হয় ১ কেজি ৬০ গ্রামের মতো। প্রিস্টার্টার, স্টার্টার ও ফিনিশার – এই তিন ধরণের খাবার মুরগিদের খাওয়াতে হয়।

মুরগির এই খাবার তৈরি হয় ২৭ শতাংশ সয়াবিন ও ৬০ শতাংশ ভুট্টা দিয়ে। কিন্তু মুরগি প্রতিপালকদের কথায়, গত কিছু মাসে ভুট্টার দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায়। আর সয়াবিনের দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা থেকে ৬৬ টাকায়। মুরগির বৃদ্ধির জুন্য খাবার উৎপাদনে লাইসিন, ডিএল মেথিওনিন, এল ফ্রেয়োনাইনের মতো অ্যামাইনো অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গত কিছু মাসে এই সমস্ত উপাদানেরই দাম বেড়েছে।

জানা যাচ্ছে, প্রতি কেজি মাংস উৎপাদন করতে আগে যা খরচ হত, এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহণের খরচও। আর গরমের জেরে মুরগি ছানাদের মৃত্যুও বেড়েছে। সব মিলিয়েই এক ধাক্কায় দাম বেড়ে গিয়েছে চিকেনের।

Related Articles

Back to top button