রাজ্য

বিতর্কিত সৌগত! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে হাত দিলে একবার নয় ১০০ বার বিধানসভা ভাঙব, হুমকি তৃণমূলের প্রবীণ নেতার

বিধানসভা ভোটের মুখে লাগাতার বেফাঁস, বেলাগাম মন্তব্য করে চলেছেন বাংলার রাজনৈতিক নেতারা। এবার অসাংবিধানিক বাক্য ব্যবহার করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।

প্রসঙ্গত, শনিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আগরপাড়ার উদয়ন সংঘের ময়দানে একটি দলীয় জনসভায় দমদমের সাংসদ সৌগত রায় নিজের বক্তব্যে বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে হাত দিলে একবার নয়, ১০০ বার বিধানসভা ভাঙচুর হবে।

সৌগত’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সম্পর্কেও অশালীন কথা বলেছেন। শুধু দিলীপ নয়, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুনীল মণ্ডলকে আক্রমণ করতে গিয়েও শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়েছেন সৌগত।

বিজেপি সভাপতিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষের এক রকম রোগ আছে। সকাল বেলার দিকে ওঁর মাথা ঠিক মতো কাজ করে না। সকালবেলায় বৈঠক করার পর ও হাফ প্যান্ট পড়ে কিংবা গলাবন্ধ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। রোজ উল্টোপাল্টা কথা বলে ওর হাঁটা দেখে মনে হয় বেনারসের ধর্মের ষাঁড়ের মতো। ওঁকে নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন দরকার নেই। একটু চেঁচাবে, এর বাইরে এর বেশি কিছু করতে পারবে না।”

বিধানসভা ভাঙচুর নিয়ে কি বলেছেন তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা?

নিজের বক্তব্যে সৌগত এদিন জানান, ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলন শুরু হয়। আমরা তখন বিধানসভায়। হঠাৎ করে মমতা বিধানসভার লবিতে আসেন। চুল উস্কোখুস্কো, পায়ে চটি নেই, মুখে অত্যাচারের ছাপ। উনি বললেন, আমি সিঙ্গুর যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ জোর করে গাড়িতে তুলেছিল। শারীরিকভাবে আমায় অত্যাচার করেছিল। এর পর তিনি বিধানসভায় আসেন। ওইদিন বিধানসভার শুরুর পরে তৃণমূলের বিধায়করা হইচই শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে আমাদের অর্জুন সিং এবং দুলাল বেঞ্চগুলো উল্টে দেয়। এর মধ্যে আবার অর্জুন সিং সবচেয়ে বেশি চেয়ার এবং টেবিল ভাঙচুর করে। বিধানসভার তৎকালীন স্পিকার আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন কী হয়েছে? আমি তখন বলেছিলাম হ্যাঁ একটু ভাঙচুর হয়েছে। স্পিকার বললেন কেন‌ও? আমি বললাম, আমরা যে দলের সদস্য, সেই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বামফ্রন্টের পুলিশ মারবে, হেনস্থা করবে, চটি খুলে যাবে, আর কিছু হবে না বলে ভাববেন। তবে আপনি মুখের স্বর্গে বাস করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে হাত দিলে একবার নয়, ১০০ বার বিধানসভা ভাঙচুর হবে।

এরপর‌ই, অমিত শাহ’র সভায় সদ্য তৃণমূলত্যাগী সাংসদ সুনীল মন্ডলের ওপর হামলার প্রসঙ্গে সৌগত বলেন “সুনীল মন্ডল প্রথমে ফরওয়ার্ড ব্লকে ছিল, পরে মুকুল রায় হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করে। মুকুলের যে মালগুলো, সেগুলোই বেশি করে বিজেপিতে যাচ্ছে। তারপর ২০১৪ ও ২০১৯ সালে পরপর দু’বার সাংসদ নির্বাচিত হলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অমিত শাহ’র মিটিংয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। শুনলাম সুনীলের ওপর হামলা হয়েছে। সুনীলের ওপর বিক্ষোভ কোনও পরিকল্পিত বিক্ষোভ নয়। এটা স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ। আমাদের তৃণমূলের মিটিং ছিল বিজেপির লোকেরা আসছে যাচ্ছে ওরা কিছু বলেনি। কিন্তু সুনীলকে দেখে তারা আর শান্ত থাকতে পারেনি। যে ব্যক্তি (সুনীল) মমতার টিকিট পেয়ে, মমতার আশীর্বাদ পেয়ে সাংসদ হয়েছে, সে হেঁটে হেঁটে বিজেপিতে চলে গেল। কেউ যদি ভাবে যে বিক্ষোভ হবে না, আমি বলব একবার নয় ১০০ বার বিক্ষোভ হবে।”

নিজের বাক্-আক্রমণে সৌগত শুভেন্দুকেও ছাড়েননি। তাঁকে মীরজাফরের সঙ্গে তুলনা করে সৌগত রায় বলেন “শুভেন্দু অধিকারীকে মমতা কী দেননি। তিনি তিনটি দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনটি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, হলদিয়া বন্দর দিয়ে যতগুলো ট্রাক বের হয়, তার প্রত্যেকটার উপর থেকে শুভেন্দুর লোকেরা নজরানা নেয়। এত পেয়েও তার পেট ভরেনি। তাই সে ছেড়ে চলে গেলো।”

সৌগতর দাবি করে জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী কোনও বৈঠকে কখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়নি। অথচ অমিত শাহ এর বৈঠকে উপস্থিত থেকে তোলাবাজ ভাইপো বলে অভিযোগ করেন। তবে কেন‌ও আমাদেরকে তিনি একথা বললেন না?

Related Articles

Back to top button