রাজ্য

‘তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান-কাউন্সিলরের কাছে আমার থেকে বেশি টাকা রয়েছে’, সম্পত্তি বৃদ্ধির মামলায় তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সৌমিত্র খাঁ

বিজেপি (BJP) ও সিপিএমের (CPM) বেশ কিছু সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সমস্ত সাংসদ-বিধায়কদের সম্পত্তির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার এই নিয়ে সরব হলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন যে তিনি দুই বারের সাংসদ ও একবারের বিধায়ক। তিনি জানান যে তিনি তাঁর বেতনের ৫০ শতাংশ টাকাও সঞ্চয় করে রাখতে পারেন নি। এই এও লেখেন যে তিনি যদি নিজের বেতন জমিয়ে রাখতে পারতেন, তাহলে তাঁর কাছে অনেক টাকা থাকত।

সংবাদমাধ্যমে সৌমিত্র খাঁ জানান, “তৃণমূল অনেক ভাবে আমার পিছনে লাগার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি মানুষের সাথে আছি। দুর্নীতির সাথে কোনওদিন ছিলাম না আর থাকব ও না। গত লোকসভা ভোটের আগে আমি দাবি করেছিলাম শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে, বাংলায় কয়লা চুরি,বালি চুরি,পাথর চুরি থেকে সরকারি টাকায় বিশাল চুরি করছে তৃণমূল । লোকসভা ভোটের সময় বলেছিলাম তা ধীরে ধীরে প্রমান হচ্ছে বলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে”।

রাজ্যের বিরোধী দলের নেতাদের সম্পত্তি অনেক গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন অভিজিৎ সরকার নামের এক আইনজীবী। যে বিধায়ক-সাংসদদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তারা হলেন-

  • শুভেন্দু অধিকারী
  • শিশির অধিকারী
  • দিব্যেন্দু অধিকারী
  • লকেট চট্টোপাধ্যায়
  • দিলীপ ঘোষ
  • সৌমিত্র খাঁ
  • মনোজ ওরাঁও
  • আব্দুল মান্নান
  • মিহির গোস্বামী
  • অগ্নিমিত্রা পাল
  • শমীক ভট্টাচার্য
  • তন্ময় ভট্টাচার্য
  • শীলভদ্র দত্ত
  • বিশ্বজিৎ সিনহা
  • অনুপম হাজরা
  • মহম্মদ সেলিম
  • জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি

অনেকেরই দাবী, তৃণমূল প্রতিশোধের রাজনীতি করছে। তবে তৃণমূল যে এই রাস্তায় হাঁটবে, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত রবিবারের বেহালার সভায় একপ্রকার নিশ্চিত করেই দিয়েছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে যে দিলীপ ঘোষ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অস্থাবর সম্পত্তি তেমন না বাড়লেও, স্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে। এই সম্পত্তি বৃদ্ধির মামলা কোন এজলাসে ওঠে, এখন সেটাই দেখার। আজ, শুক্রবার এই মামলার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

অন্যদিকে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ আরও বলেন, “আমি সব তথ্য প্রকাশ করতে কোনও অসুবিধা নেই। আমি কোনওদিন দুর্নীতির সাথে ছিলাম না”। তিনি এও বলেন, “তৃণমূলের পঞ্চয়েত প্রধান ও কাউন্সিলের থেকে আমার কাছে অনেক কম টাকা আছে”।

Related Articles

Back to top button