রাজ্য

‘আমার উপর কুনজর, ক্যামেরা লাগিয়ে নজরদারি, নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে চান’, বিস্ফোরক অভিযোগ জানিয়ে চিঠি শিক্ষিকার

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠল স্কুল শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ। অভব্য আচরণ করার অভিযোগ তুললেন ওই শিক্ষিকা। বোলপুরের এই শিক্ষিকা এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি চিঠি লিখলেন।

এই চিঠিতে ওই শিক্ষিকা লেখেন যে ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক তাঁর যৌন হেনস্থা করেন। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে তাঁর উপর নজরদারি চালান তিনি। নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে বারবার তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন ওই প্রধান শিক্ষক, এমনটাই অভিযোগ ওই শিক্ষিকার।

অভিযোগকারী ওই শিক্ষিকা বলেন, “আমাদের প্রধান শিক্ষক মহাশয় একেবারেই নারীদের সম্মান করেন না। আমার উপর একটা অন্য নজর ওনার। উনি ওনার যৌন লালসা মেটানোর তাগিদ রেখেছিলেন। তার জন্য উনি মাঝেমধ্যেই আমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এই প্রস্তাব আমি যেহেতু মেনে নিইনি, তাই উনি নানাভাবে আমাকে হেনস্তা করেন। অপদস্থ করেন। কিন্তু কোনওভাবেই আমাকে ওনার পথে চালাতে পারেননি। এরপরই উনি স্টাফ রুমে সিসিটিভি লাগিয়ে দেন। স্টাফ রুমে লাগানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে উনি আমাকে সবসময় আমার উপর নজরদারি চালান। আমাকে এও বলেছেন, যদি আমি ওনার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করি বাইরে, তা হলে উনি আমাকে নানা সুযোগ দেবেন”।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে লেখা চিঠিতে ওই শিক্ষিকা আরও লেখেন যে এই স্কুলে তিনি ১৭ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তাঁর অভিযোগ, “আমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দ্বারা আমি নানাভাবে নির্যাতিত। উনি বহুদিন ধরে আমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। তাতে আমি রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে প্রতিপদে হেনস্তা ও অপদস্থ করেন। যার ফলে আমি সবসময় আতঙ্কে থাকি”।

অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাবী করেন, “এই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। সিসিটিভি গোটা স্কুলেই লাগানো রয়েছে। আমার ঘরে তো রয়েছেই, স্টাফ রুমে, ক্লাস রুমেও রয়েছে। মোট ১৬টা সিসিটিভি আমাদের স্কুলে লাগানো রয়েছে। সুতরাং নির্দিষ্ট কোনও ক্যামেরা দিয়ে কোনও শিক্ষিকাকে দেখার প্রশ্নই নেই। দ্বিতীয় কথা, কেউ যদি দাবি করেন কুপ্রস্তাব দিয়েছি, তা হলে তা তো প্রমাণেরও বিষয় থাকে। এর আগেও এসব বলেছেন”।

ওই শিক্ষিকা আরও অভিযোগ করেন যে করোনা পরিস্থিতিতে বাস না চলার কারণে তিনি ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারেন নি। এই কারণে তাঁর বেতন থেকে ১৩ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, বাচ্চার দেখাশোনার জন্যও নাকি তাঁকে ছুটি দেওয়া হয় না। অসুস্থতার জন্য তিনি দু’দিন স্কুলে না যাওয়ায় ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষিকার। এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন যে অনুপস্থিতির কারণে উইদাউট পে করা হয়েছে। এই কারণে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওই শিক্ষিকা এমন কাজ করছেন বলে অভিযোগ।

Related Articles

Back to top button