রাজ্য

রাজ্যে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে অজানা জ্বরের প্রকোপ, শ্বাসকষ্টে ভুগছে একাধিক শিশু, চিন্তায় চিকিৎসক মহল

মালদায় ঘরে ঘরে শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে অজানা জ্বরের প্রকোপ। হরিশ্চন্দ্রপুরে একাধিক শিশু জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হাসপাতালে। প্রত্যেকের অবস্থাই সংকটজনক। এর জেরে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

তাদের মতে, ছোটো হাসপাতালে অন্যান্য সময় খুব বেশি হলে ৫ জন শিশু ভর্তি থাকে। কিন্তু সেখানে এখন ভর্তি ১২ জন শিশু। জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নমুনা নেওয়া হয়েছে। অক্সিজেন দিতে হচ্ছে শিশুদের ফলে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে। আগামীদিনে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ছোটন মণ্ডল বলেন, “অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। দুটো ওয়ার্ডে ৩০ টা বেড। অক্সিজেন সাপ্লাই করার ব্যবস্থা করেছি। অবশ্য সব বেডের প্রয়োজন হয়নি। আমরা সব রকম দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছি”।

হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে অক্সিজেন প্ল্যান্ট। এর জেরে উপকৃত হচ্ছে বহু শিশু। তবে জ্বরে আক্রান্ত অনেক শিশুকেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বেড ও পরিকাঠামোর অভাবে হাসপাতাল দায়সারাভাবে কাজ করছে। এমনকি পরিবারের এও অভিযোগ যে তাঁদের করোনা পরীক্ষাও করানো হচ্ছে না।

মালাদাতেও শিশুদের করোনা সংক্রমণ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চিকিৎসক মহলে। একইদিনে ৪ জন শিশুর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। গত তিন দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১৩টি শিশু। এদিকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মালদা কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ১০ শিশুর। বর্তমানে ১২৬টি শিশু মালদা কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।

জেলার অন্যান্য ব্লক হাসপাতালগুলিতেও  একাধিক শিশু ভর্তি। শিশু ও তাদের পরিবার যাতে করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে, এর জন্য বারবার স্বাস্থ্য দফতর থেকে সচেতন করা হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি।

রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর অনুযায়ী, জ্বরের কারণ খুঁজতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভাইরাস প্যানেলে। এর পাশাপাশি, এই জ্বরের উপসর্গের নিরিখে কী ধরনের চিকিৎসা করতে হবে সেই সংক্রান্ত প্রোটোকল বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করছে। দ্রুতই তা জেলাস্তরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে। তবে ভাইরাল প্যানেলে পরীক্ষা খরচসাপেক্ষ হওয়ায় করোনা, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস ধরা না পড়লে তবেই ভাইরাস প্যানেল করতে বলা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button