রাজ্য

‘কোনও দলেরই ১০০ শতাংশ কর্মী সৎ হয় না’, নিজের দলের দুর্নীতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন শোভনদেব

আজ, শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারের ৫৭ দিন পর গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের নামে চার্জশিট জমা করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আবার এদিনই ইডি অনুব্রতর দেহরক্ষী জেলবন্দি সায়গল হোসেনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কোনও দলই বলতে পারবে না, তাদের ১০০ শতাংশ কর্মীই সৎ। যে কোনও দলেই অসৎ মানুষ আছে। তাদের দোষ সামনে এলে শাস্তি পাবে। তা বলে সবাই অসৎ নয়। যারা অসৎ, তারা শাস্তি পাবে। তবে তার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না। সাধারণ মানুষ যা যা চান, আমার দলের নেত্রী তা দেন। কন্যাশ্রী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধে সাধারণ মানুষ পান। তাই মানুষ তাঁকে সমর্থন করবেন”। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কেউ বলেছেন যে ডিসেম্বরেই এই সরকারের পতন হবে। এহেন পরিস্থিতিতে এর আগে শোভনদেব বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার বলেছেন যে, কোর্ট থেকে পরিষ্কার হয়ে আসতে হবে। না হলে দল স্বীকার করবে না কাউকে। সব দলেই ভাল–খারাপ লোক থাকতে পারে। খারাপ লোক ধরা পড়লে শাস্তি পাবে। কিন্তু, তার মানে একটা দল পুরো খারাপ হয়ে যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যায় করেন না”।

বলে রাখি, আজ গরু পাচারকাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলের নামে আসানসোল আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। অনুব্রতকে গ্রেফতারের ৫৭ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেওয়া হল। ৩৫ পাতার এই চার্জশিটে অনুব্রতকেই গরু পাচার মামলার মূল লাভবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫টি অ্যানেক্সচারও জমা দেওয়া হয়েছে।

এই চার্জশিটে অনুব্রতকে প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সম্পত্তির ৫৩টি দলিল এবং প্রায় ১৮ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে এই চার্জশিটে। অন্যদিকে আবার অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে চার ঘন্টা জেরা করার পর তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে ইডি।

Related Articles

Back to top button