রাজ্য

বিজেপিকে ভোট দেওয়ার খেসারত, বন্যাদুর্গতরা পাচ্ছেন না খাবার, ত্রাণ, নোংরা রাজনীতির কবলে ৫ হাজার পরিবার

বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জের। বন্যা দুর্গতদের জুটছে না খাবার, পানীয় জল। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে চলছে এক অন্য রাজনীতি। এই এলাকায় ফুলহারের জলে ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার পরিবার।

এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিতে চলেছেন এই ৮টি গ্রামের বাসিন্দা। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যে ৮টি গ্রাম এখনও প্লাবিত সেগুলি হল তাঁতিপাড়া, কাউয়াডোল, মিরপাড়া, খোপাকাঠি, উত্তর ও দক্ষিণ ভাকুরিয়া, রশিদপুর, ফুলাহার।

আরও পড়ুন- মুখে নেই মাস্ক, তারস্বরে লাউড স্পিকার বাজিয়ে নাচগান করে মেডিক্যাল কলেজে পালিত হল রাখিবন্ধন উৎসব

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পঞ্চায়েত ও একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৮ গ্রামে তৃণমূল নামমাত্র ভোট পেয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবী, এই কারণেই তারা সমস্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের কোনও ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ত্রিপলও জুটছে না তাদের। নেই খাবার, পানীয় জল। এর জেরে অনাহারেই কার্যত দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে রাগ জমতে জমতে তা বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। আজ, সোমবার সকাল থেকেই গ্রামে গ্রামে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে তারা।

বন্যা দুর্গতদের অভিযোগ, বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সমস্ত ব্লকেই। কিন্তু ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে বেছে বেছে। বিজেপি ভোট দেওয়ার শাস্তি পাচ্ছেন তারা, এমনটাই মনে করছেন গ্রামবাসীরা। এই বিষয়ে প্রশাসনও মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ। জমে থাকা জল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। চিকিৎসাও করাতে পারছেন না, কারণ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই।

এমনকি করোনা টিকা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা, এমনটাই অভিযোগ। স্থানীয় এক মহিলার কথায়, “আমাদের খাবার জুটছে না। ছোটো ছোটো বাচ্চা নিয়ে থাকি। আমাদের তো কোথাও যাওয়ার উপায় নেই”। এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা কুন্দল মণ্ডল বলেন, “তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে। মেম্বারও কিছু জানেন না। এখানকার লোক বিহারে গিয়ে ভ্যাকসিন নিচ্ছে”।

তবে এই ত্রাণ না পাওয়ার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল সরকার ত্রাণ নিয়ে কোনও রকমের রাজনীতি করে না। ওঁরা কেন ত্রাণ পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তৃণমূলের এমনও বক্তব্য যে সরকারের পক্ষে সময়মত ঘরে ঘরে ত্রান পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন- মানবিকতার নজির! পাসপোর্ট নেই, তবুও আফগান শিশুকে কাবুল থেকে ভারতে আনল ভারতীয় বায়ুসেনা

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন, “দিদির সরকার ওরকমটা ভাবে না। যে সুবিধা তৃণমূল পাবে, বিজেপি পাবে। এরকম রাজনীতি তৃণমূল করে না। এখানে বন্যা প্রতি বছরই হয়। এখানে বিডিও সব পঞ্চায়েতে পাঠিয়েছে। ওখান থেকে বিতরণ হতে একটু সময় লাগছে”।

Related Articles

Back to top button