রাজ্য

পুরুলিয়ার স্কুলের আবেদনপত্রে ইংরেজি বানানে ভুল, ‘শিক্ষকরাই ভুল বানান লিখছেন, ছাত্রীর আর কী দোষ’, কটাক্ষ নেটিজেনদের

উচ্চমাধ্যমিকে অকৃতকার্য নানান পড়ুয়াদের বিক্ষোভের সময় এক ছাত্রীর একটি ইংরেজি বানান ভুল নিয়ে গোটা রাজ্যে কার্যত শোরগোল পড়ে যায়। এবার স্কুল শিক্ষকদের বানান ভুল নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। নেট মাধ্যমে একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুরুলিয়ার একটি হাইস্কুলের আবেদনপত্রে ইংরেজিতে স্কুল বানানটি ভুল লেখা রয়েছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবী, এটা কোনও ছাত্রের দুষ্টুমি। কিন্তু নেটিজেনদের এই বিষয়ে কটাক্ষ, “শিক্ষকরাই যদি ভুল বানান লেখেন, তাহলে ছাত্রীর আর দোষ কোথায়”? যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪৭।

এই বছর উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করা পড়ুয়াদের বিক্ষোভে এক ছাত্রীকে এক সাংবাদিক ইংরেজিতে ‘আমব্রেলা’ বানানটি জিজ্ঞাসা করেন। সেই ছাত্রী সেই বানান ভুল বলায় নেটমাধ্যমে চরম ট্রোলের শিকার হতে হয় তাকে। নানান কটাক্ষ ধেয়ে আসে তার দিকে। সেই ছাত্রীর বাবার দাবী তাঁর মেয়েকে এই কারণে দু’তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে। তবে অনেকেই আবার এই ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আঙুল তোলেন।

এসবের মধ্যেই এবার সামনে এল পুরুলিয়ার দিঘি হাইস্কুলের আবেদনপত্রে ইংরেজিতে ভুল ‘স্কুল’ বানানের বিষয়টি। এই নিয়েও যথেষ্ট কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনরা। তবে এই বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত এক শিক্ষক বলেন, “এটা মুদ্রণজনিত ত্রুটি। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই আমরা সঙ্গে সঙ্গে বানান পাল্টে দিয়েছি। সেই সঙ্গে নতুন আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে। তবু কিছু বদমাশ ছেলেপুলে ওই পুরনো বানানের ছবি তুলে ভাইরাল করেছে”।

এই গোটা ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা শেষ হয়ে গিয়েছে। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্ভাগ্য চলছে, বলা যায়। আগে বাংলা বোর্ডের ছাত্র-ছাত্রীদের নম্বরকে ভাল চোখে দেখা হত। এখন আর তা হয় না”।

পড়ুয়ার ভুল বানান প্রসঙ্গ ঘটনায় পুরুলিয়া জেলার বিশিষ্ট কবি তথা সাহিত্যিক দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “বিক্ষোভকারী ছাত্রীকে আমব্রেলা বানান জিজ্ঞাসা করার বিষয়টি আমি ভাল চোখে দেখছি না। কারণ সে ইংরেজিতে দুর্বল বলেই ফেল করেছে। আর বিক্ষোভের কারণ জানতে গিয়ে বানান ধরাটা নিম্নমানের সাংবাদিকতা বলে মনে করি। লকডাউনের আগে থেকেই পাশ-ফেল প্রথা উঠে যাওয়া এবং প্রাথমিক স্তরে নিম্নমানের শিক্ষাব্যবস্থা, সব মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে, তা বলা যায়”।

Related Articles

Back to top button