রাজ্য

রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে বাধা পুলিশের, মেয়ো রোডে প্রকাশ্যেই আত্মহত্যার চেষ্টা এসএসসি চাকরিপ্রার্থীর, উত্তাল পরিস্থিতি

যতই সময় এগোচ্ছে, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আরও নানান তথ্য সামনে আসছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে। গতকাল, বুধবারই সিবিইআই দফতরে হাজিরা দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এই মামলায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। তাঁকেও সিবিআই দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর এসবের মধ্যেই আরও এক ঘটনা ঘটে গেল কলকাতার রাজপথেই। পুলিশের সামনেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক এসএসসি চাকরিপ্রার্থী।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ, বৃহস্পতিবার মেয়ো রোডের মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির সামনে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে কিছু চাকরি প্রার্থীরা। সেখানেই এসবের মাঝে আচমকাই আত্মহত্যার চেষ্টা করে বসে এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী। তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করেন মহিলা পুলিশ। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

আজ, বৃহস্পতিবার বিজেপি নেতা সজল ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকজন এসএসসি চাকরিপ্রার্থী রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু যাওয়ার পথে মেয়ো রোডে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এই নিয়ে শুরু হয় বচসা।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি হয় পুলিশের। আর এরই মাঝে এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী একটি গাছের মধ্যে গলায় দড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটকান এক মহিলা পুলিশ। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

এদিনের এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “আমরা রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার জন্য রওনা দিই। রাজ্যপাল আমাদের সময়ও দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ো রোডে পৌঁছানোর পরে পুলিশ আমাদের বাধা দেয় এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সেই সময় কিছু পরীক্ষার্থী মহিলাদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করতে যায় আর তার বিরোধিতা করে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে আমাদের মারতে শুরু করে। পরবর্তীতে গাড়িতে তুলে আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়”। এই ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুধু তাই-ই নয়,  তিনি টুইট করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন।

Related Articles

Back to top button