রাজ্য

বদলি হয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক, তাঁকে আটকাতে পায়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল পড়ুয়ারা

শিক্ষক-পড়ুয়াদের মধ্যে যে একটা স্নেহের বাঁধন রয়েছে, তা অস্বীকার করা যায় না। আমাদের প্রত্যেকের জিবনেই এমন কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা থাকেন, যিনি বা যারা আমাদের জীবনে আরও এগিয়ে যেতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বোধ হয় একটু বেশি আপন হন কারণ অনেকগুলো বছর তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকি আমরা। এই কারণে তাদের মধ্যে কেউ বদলি হয়ে গেলে বা অবসর গ্রহণ করলে, আমাদের সকলেরই খুব খারাপ লাগে। এমনই এক ঘটনা এবার ঘটল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায়।

সেখানে এক স্কুলে বদলি হয়ে যাচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকের বদলি আটকাতে তাই স্কুলের অফিসরুমের সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাল পড়ুয়ারা। এমনকি, তাদের প্রিয় শিক্ষক যাতে স্কুল ছেড়ে না যান, সেই জন্য তাঁর পায়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল তারা। বদলি আটকাতে স্কুলের ক্লাস ও মিড-ডে মিলও বয়কট করেছে পড়ুয়ারা, এমনটাই জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার চাঁপাডালি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সূত্রের খবর, ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নরেশ রানা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে নিজের বাড়ির কাছাকাছি একটি স্কুলে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর সেই আবেদন স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে থেকে মঞ্জুর হয়েছে। এরপরই প্রিয় শিক্ষককে স্কুল ছেড়ে যেতে দিতে নারাজ পড়ুয়ারা। কান্নায় কার্যত ভেঙে পড়ে তারা।

কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষককে চলে যেতেই হবে। পড়ুয়াদের সে কথা জানিয়েও দেন নরেশ বাবু। কিন্তু পড়ুয়ারা নাছোড়বান্দা। গত ১২ বছর ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অভিভাবকের মতো স্কুল পড়ুয়াদের সামলে এসেছেন নরেশ রানা। পড়ুয়াদের কোনও সমস্যা হলে তিনি তা তৎপরতার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করে এসেছেন।

এদিকে, প্রধান শিক্ষকের এমন স্নেহে পড়ুয়ারাও তাঁকে অত্যন্ত আপন করে নিয়েছে। এই কারণে, বদলির প্রসঙ্গ উঠতেই তা তারা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছে না। পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও প্রধান শিক্ষককে ছাড়তে নারাজ। প্রিয় শিক্ষকের বদলি যাতে রোখা যায়, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারাও।

Related Articles

Back to top button