রাজ্য

‘কোনও সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না’ বিস্ফোরক দাবী সুব্রতর আইনজীবীর, অভিযোগ নাকোচ করে মন্ত্রীর মৃত্যুতে পাল্টা যুক্তি এসএসকেএমের

গতকাল দীপাবলির রাতে যেন কেমন অন্ধকার নেমে আসে। না ফেরার দেশে পাড়ি দেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বিগত ১১দিনের লড়াই শেষ হয় তাঁর। গত ২৪ অক্টোবর প্রবল শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের উপসর্গ নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। চিকিত্সা চলছিল আইসিসিইউতে। আজ, শুক্রবার বাড়ি ফেরারও কথা ছিল তাঁর। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ।

মন্ত্রীর মৃত্যুর পর এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল। সুব্রতবাবুর আইনজীবী মনিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেছেন, “জুনিয়র ডাক্তাররা এসে পাম্প করছিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা ছিলেন না। যখন ব্যথা হচ্ছিল, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা কেউ ছিলেন না”।

সুব্রতর আইনজীবীর এই কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে চিকিৎসকরা তাহলে ছিলেন কোথায়? শহরের অন্যতম সরকারি হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের অবস্থা কী এরকমই? অন্যান্য দিন কী চিকিৎসকরা থাকেন? নাকি গতকাল কালীপুজোর জন্য এমন অবস্থা?

তবে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের কথায়, ঘটনার সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে ছিলেন না। তবে সন্ধ্যেবেলার রাউন্ড শেষে সুব্রতবাবুকে দেখে গিয়েছিলেন তারা। সন্ধ্যার পর যে এমন কোনও ঘটনা ঘটতে পারে, তেমন কোনও ইঙ্গিত পাননি চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের তরফে এও জানানো হয়েছে যে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখনই তাঁর হৃদপিণ্ড ঠিকমতো কাজ করছিল না। প্রবল শ্বাসকষ্ট ছিল তাঁর। ভর্তির সময় থেকেই একাধিক হার্ট অ্যারিথমিয়া বা হৃদপিণ্ডের গতির ছন্দপতন এহয় তাঁর। গত সোমবার তাঁর বুকে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর মঙ্গল ও বুধবার হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন ঘটেনি। সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা জানান যে সুব্রতর পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। আজ, শুক্রবার ছুটি পাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

কিন্তু সন্ধ্যা ৬.৪৫ নাগাদ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা হাসপাতাল ছাড়তেই বিপত্তি। আচমকাই হার্ট অ্যারিথমিয়া শুরু হয় তাঁর। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন যে তাঁর হৃদপিণ্ডের মাংশপেশি, আর্টারি আগের থেকেই দুর্বল ছিল। সেই কারণেই এমন ঘটেছে। এসএসকেএমের তরফে এও জানানো হয় যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা না থাকলেও, বাকি যারা ছিলেন তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকবিহ্বল মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারই তিনি বলেছেন, “সুব্রতদার দেহ আমার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়”। আজ, সকাল ১০টা-দুপুর ২টো পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এরপর দুপুর ২টোর পর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে দেহ। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে প্রয়াত রাজনীতিকের শেষ কৃত্য। আজ, শুক্রবার সরকারি দফতরে অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। প্রয়াত মন্ত্রীর শ্রদ্ধায় রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button