সব খবর সবার আগে।

‘পুরপ্রশাসক বলেছেন সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দিচ্ছি, ভালো করে খাওয়াদাওয়া করে শোক ভুলে যান’, দাবী দমদমে মৃত শিশুর পরিবার, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথে পরিবার

গত বুধবার দমদমের বান্ধবনগরে জমা জমে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয় দুই শিশু বালিকার। মৃত দুই বালিকার নাম অনুষ্কা নন্দী ও শ্রেয়া বনিক। দুজনকে পরে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর জন্মদিন ছিল অনুষ্কার। কিন্তু অকাল দুর্যোগ ও প্রশাসনের গাফিলতি প্রাণ কেড়েছে তরতাজা ওই প্রাণের। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে তার বান্ধবী শ্রেয়াকেও। দক্ষিণ দমদমের বান্ধবনগরের ওই এক চিলতে ঘরে এখন শুধুই মায়ের হাহাকার।

আজ, শুক্রবার মৃত দুই বালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও রাজ্য সহ-সভাপতি ও সাংসদ অর্জুন সিং। শ্রেয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিজেপি নেতাদের সামনে সেই এলাকার পৌরপ্রশাসক ও কাউন্সিলরের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দেন তারা। তাদের মেয়ের এই অকাল মৃত্যুর জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেন শ্রেয়ার মাসি। তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান।

এদিন সুকান্ত মজুমদার ও অর্জুন সিং-এর সামনে শ্রেয়ার মাসি নিজে বলেন যে তাঁকে দমদমের ৯ ওয়ার্ডের পুরপ্রশাসক পাঁচুগোপাল রায় বলেছেন, “সাড়ে তিন লক্ষ টাকা এক্ষুনি দিচ্ছি। সরকারি চেক হবে। সঙ্গে সঙ্গে টাকা পেয়ে যাবেন। টাকা দিয়ে ভালোভাবে খাওয়াদাওয়া করুন। শোক ভুলতে পারবেন”।

এমন নিম্নরুচির মানসিকতা কোনও মানুষের কী করে হতে পারে, প্রশ্ন শ্রেয়ার মাসির। তাঁর কথায়, “টাকা পেলেই কী আমার মেয়েটা ফিরে আসবে? আমি ওকে জন্ম দিই নি ঠিকই, কিন্তু ১২ বছর ধরে আমি ওকে আগলে রেখেচি, বড় করেছি। টাকা দিলেই কী সব ঠিক করা যায়”? বিজেপি নেতাদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

শ্রেয়ার মাসি পরিস্কার জানান যে তারা আইনের পথে যাবেন। তারা নিজের মেয়েকে তো ফেরত পাবেন না, কিন্তু তাদের মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের তিনি শাস্তি চান। আর এর জন্য যতদূর যেতে হয়, তিনি তাই করবেন।

সুকান্ত মজুমদার ও অর্জুন সিং শ্রেয়ার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে তারা তাদের পাশে রয়েছেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আপনাদের মেয়েকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু আমি ক্ষমা চাইছি। যাদের ক্ষমা চাওয়ার কথা, তারা তো টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চাইছে। আপনারা আইনি লড়াই লড়তে চাইলে করতে পারেন। আমি আর আমার দল সবসময় আপনাদের পাশে আছি। সবরকম সাহায্য করব আমরা”।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় পড়তে যায় অনুষ্কা। পাশেই তার বন্ধু শ্রেয়ার বাড়ি। তাকে ডেকে নেয় যাওয়ায় সময়। অনুষ্কার মা জানান বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল তারা। কিন্তু উল্টোদিক থেকে দুধের গাড়ি এসে পড়ায় পাশ কাটাতে যায় দুই বন্ধু। শ্রেয়া টাল না সামলাতে পেরে রাস্তার ধারের লাইটপোস্টে হাত দিয়ে ফেলে। তখনই বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয় সে। অনুষ্কা বুঝতেই পারে নি কী হচ্ছে। ভেবেছে হয়ত শ্রেয়ার শরীর খারাপ করছে। তাকে ধরতে যায় সে। ব্যস, মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ।

You might also like
Comments
Loading...