রাজ্য

রাজ্যে কী তবে জারি রাষ্ট্রপতি শাসন? বড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছিল নানান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষত বিজেপি। এরই সঙ্গে রাজ্যে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা। গোটা রাজ্যে নানান হিন্দু, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা করা থেকে, মহিলাদের উপর নির্যাতন, শ’য়ে শ’য়ে ঘরছাড়া করা, সবই দেখেছে এই রাজ্য।

এই কারণেই গেরুয়া শিবির বারবার দাবী করেছে যাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। এই বিষয়ে যাতে কেন্দ্রকে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, এমনটাও আর্জি জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। এবার এই মর্মে গত বৃহস্পতিবার একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মত দিল সুপ্রিম কোর্ট।

সংশ্লিষ্ট এই জনস্বার্থ মামলাটিতে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পাশাপাশি এই রাজ্যে সামরিক বাহিনী বা আধাসেনা বাহিনী মোতায়েন করারও দাবী করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলাকারীর দাবী, এমনটা না করলে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ স্থিতাবস্থা ও শান্তি ফিরবে না।

এরই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফলের পর ঠিক কী কারণে এমন হিংসার ঘটনা ঘটল, এরও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবী জানানো হয়েছে। এই তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের নির্দেশ যাতে দেওয়া হয়, এমন আর্জিও জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে।

আরও পড়ুন- করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ বাংলার সরকার, সামনে এল সমীক্ষার রিপোর্ট

সূত্রের খবর অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের একজন আইনজীবী এই জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন। নাম জিতেন্দর সিং। তাঁর হয়ে এদিন তাঁর আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন শীর্ষ আদালতের সামনে মামলাটি উপস্থাপন করেন। হরিশঙ্কর জানান, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদেই এই মামলাটি করা হয়েছে ৷

এদিন এই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি বিনীত সারান এবং বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরীর বেঞ্চের তরফে কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠানো হয়। এতে হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলিকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য় কেন্দ্র ও রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, সকল পক্ষের মতামতও জানতে চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি শুরু করার পাশাপাশি মামলার বয়ানে উল্লিখিত চার পক্ষের কাছে নোটিশ পাঠানোর আবেদন করা হয়। কিন্তু কেন্দ্র সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশন, এই তিন পক্ষের কাছে নোটিশ পাঠানো হলেও, চতুর্থ পক্ষ অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁকে কোনও নোটিশ পাঠায় নি সুপ্রিম কোর্ট।

Related Articles

Back to top button