রাজ্য

গরু,বালি হয়ে গেছে, ফের তৃণমূল ক্ষমতায় এলে কিডনি বেচে দেবে! বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে যমের দুয়ারে পাঠানোর ডাক শুভেন্দু’র!

আজ বিজেপির হয়ে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলিতে প্রথম সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন দলে যোগ দিয়ে শক্তিশেলে বিদ্ধ করলেন পুরনো দলকে।

হালফিলে বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম চর্চিত নাম হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যাঁর দল বদল এতটাই নাটুকে ছিল যে বাংলার রাজনীতি ছেড়ে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত তিনি পরিচিত হয়ে গেছেন।

শুভেন্দু আসবেন জেনে শীতের পড়ন্ত দুপুরে‌ও উত্তেজনায় ভাটা পড়েনি জনতার উৎসাহে। কারণ রাতারাতি তাঁরা জানতে পেরেছেন এদিনের সভায় হাজির থাকবেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ ২১ বছর তৃণমূলে কাটিয়ে হালফিল বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রথম সভায় কি বলবেন তিনি? আর তা জানতেই উত্তেজনা ছিল চরমে।

আর যথারীতি সবাইকে চমকে দিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার বাক্য বিস্ফোরণ করে গেলেন শুভেন্দু।সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন ফেলে এদিন শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগদান করতে গেলে যে নীতি নৈতিকতা অনুসরণ করতে হয় কোথাও তার ব্যতিক্রম করেননি তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি আমার নৈতিকতা বিসর্জন দিইনি। গত ২৭শে নভেম্বর আমি তিনটি দফতরের মন্ত্রিত্ব সহ যাবতীয় সরকারি পদে ইস্তফা দিয়েছি। আমি বিধানসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমার পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছি। অন্য কোনও রাজনৈতিক দল আমাকে যদি সদস্যপদ দেয় আমি তা নিতে পারি। বহুদলীয় গণতন্ত্রে আমার রাইট আছে’।

নিজের দলবদলের কৈফয়তে শুভেন্দু বললেন শুভেন্দু বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর নয়। এই দল এখন দেড় জনে চালাচ্ছে। তাঁর স্লোগান, তোলাবাজ ভাইপোর হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাও। তৃণমূল সম্পর্কে শুভেন্দুর অভিযোগ, বালির গাড়ি রাস্তা ভাঙছে, পাথর, কয়লা, গরু বেচেছে। এবার জিতলে কিডনি বেচবে। আমায় বিধানসভার টিকিট দিতে হবে না। আমি ১৬ ঘন্টা খাটব। নীচে বসব। কিন্তু আমরা জিতব। সোনার বাংলা গড়ব।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন কর্মসূচি ‘দুয়ারে সরকারকে’ কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আজ যমের দুয়ারে সরকার সাড়ে ৯ বছর পর। জানুয়ারি অবধি নাটক চলবে। তার পরের মাসে কার্ড আসবে। কিন্তু টাকা পাবেন না। ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘নিজের দমে মুখ্যমন্ত্রী হলে ২০০১ সালে হতেন। নন্দীগ্রামের শব দেহের উপর দাঁড়িয়ে  জিতেছেন। বিজেপি বলেছিল হয় পদ্মফুলে দাও, না পারলে জোড়াফুলে দাও। কিন্তু অত্যাচারী সিপিএম হঠাও। তাই ওঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে বিজেপিরও পরোক্ষ সহায়তা ছিল।’

পুরনো ঘটনা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘অস্বীকার করতে পারবেন না যেদিন ছোট আঙারিয়া গণহত্যা হয়, কেন্দ্রের বিজেপি নেতা মন্ত্রী বিজয় গোয়েল, কিরীট সোমাইয়ার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার টিম পাঠিয়ে অত্যাচারীদের রুখে দিয়েছিল’।

তিনি নিজেও যে কখনো ভয়ে পিছপা হননি তা বোঝাতে শুভেন্দু বলেন, ‘২০০৪ সালে লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে কেউ লড়তে রাজি হয়নি। আমি সেদিন একদিকে বিজেপির ঝান্ডা একদিকে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে লড়াই করেছিলাম’।

এর পরই নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর বিজেপির ভূমিকা স্মরণ করান শুভেন্দু। বলেন, ‘২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম গণহত্যার পর অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারা আসেননি। অবরুদ্ধ নন্দীগ্রামে লালকৃষ্ণ আদবাণী, সুষমা স্বরাজ, রাজনাথ সিং হেঁড়িয়া, খেজুরি দিয়ে নন্দীগ্রামে প্রবেশ করেছিলেন। ৬২ দিন ধরে লোকসভা-রাজ্যসভা অচল করে নন্দীগ্রাম গণহত্যা আলোচনার জায়গায় পৌঁছে দেয় তার নাম ভারতীয় জনতা পার্টি, NDA. সিঙুরের অনশন মঞ্চে মমতাকে ফলের রসটা কে খাইয়েছিল? তার নাম তো রাজনাথ সিং’।

Related Articles

Back to top button