রাজ্য

আবর্জনা সরাতে বাংলাতেও বুলডোজার সরকার প্রয়োজন, রাজ্যবাসীকে যোগীরাজ্যের পথে হাঁটার আবেদন শুভেন্দুর, নিশানায় মমতা

তিনি এমনিতে সবসময়ই রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করার বা আক্রমণ শানানোর কোনও সুযোগ ছাড়েন না। নানান বিষয় নিয়ে নানান সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) তোপ দাগেন তিনি। এবারও এর অন্যথা হল না। পয়গম্বর ইস্যু (prophet row issue) নিয়ে বাংলায় যে হিংসা ছড়িয়েছে, এর জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

গতকাল, মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তামলিবাঁধ এলাকায় সভা করেন শুভেন্দু। সেই সভা থেকেই নানান ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। পয়গম্বর বিতর্ক নিয়ে রাজ্যের নানান প্রান্তে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই নিয়ে রাজ্যকে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে যোগীরাজ্যের পথে হাঁটলে বাংলা অনেক আগেই শান্ত হয়ে যেত।

মমতাকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন, ততদিন বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা ঢুকবে। আর গোটা ভারতে তাণ্ডব করবে”। এরপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করে শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আসুন গেরুয়া ডান্ডা শক্ত করে, বুলডোজার সরকার নিয়ে আসি। যে সরকার বুলডোজার চালিয়ে আবর্জনা সরিয়ে দেবে”।

শুভেন্দু আরও বলেন, “চারদিন ধরে পশ্চিম বাংলাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। বৃহস্পতিবার ৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিল। যখন যোগীজি পিঠে ডান্ডা ফেলছেন, ভাল করে বুলডোজার চালাচ্ছেন, তখন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে বলছেন তোমরা ওঠো”।

বলে রাখি, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার হজরত মহম্মদ সম্পর্কিত মন্তব্যের কারণে গত বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়াতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখে মুসলিমরা। নবান্নের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরোধ থাকে। এর জেরে চরম ভোগান্তি পোহায় সাধারণ মানুষ।

এরপর গত শুক্রবার সলপে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। ধূলাগড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা।  এর জেরে গতকালই গোটা হাওড়া জেলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। হিংসা ঠেকাতে উলুবেড়িয়ার একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফে। শুধু হাওড়াই নয়, মুশিদাবাদ ও নদিয়ার একাধিক এলাকায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

এই পয়গম্বর বিতর্কের আঁচ লেগেছে উত্তর ২৪ পরগণাতেও। গত সোমবার বারাসাতের নানান এলাকায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। কাজিপাড়ায় রেললাইনে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখায় ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। দেগঙ্গাতেও হিংসা ছড়ায় সেদিন।

Related Articles

Back to top button