রাজ্য

ডিসেম্বরে খুলছে রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ কিন্তু উদ্বেগ বাড়ছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠক্রম নিয়ে

ক’দিন আগেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে ডিসেম্বরেই রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও কলেজ খুলছে। এই নিয়ে বেশ উৎসাহিত শিক্ষক অধ্যক্ষেরা। কিন্তু এরই সঙ্গে চিন্তা বেড়েছে আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠক্রম নিয়ে। ইতিমধ্যেই সিবিএসই ও আইসিএসই বোর্ডের পাঠক্রমে কিছু কাটছাঁট করা হয়েছে, এর ফলে অনেকটাই ভারমুক্ত হয়েছে পড়ুয়ারা। প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা-এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠক্রমও কমানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এখন চিন্তা বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের পাঠক্রম নিয়ে।

সূত্রের খবর, রাজ্য পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচী থেকে ইতিমধ্যেই সিলেবাস কমা করা হয়েছে কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছয়নি। করোনা কালে এই বছর স্কুলে ক্লাস হয়নি বললেই চলে, ফলে এই নিয়ে চিন্তা বেড়েছে অভিভাবকদের। তাছাড়া, শুধু উচ্চমাধ্যমিকই নয়, এর সঙ্গে একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়ারা একেবারেই স্কুলে ক্লাস করতে পারেনি।

চিন্তার আরও কারণ রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া ছাড়াও শিক্ষকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষত বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা। কারণ উচ্চমাধ্যমিক ছাড়াও, বিজ্ঞান বিভাগের অনেক পড়ুয়াই ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসে। ফলে তাদের পাঠক্রম ঠিক করা হবে সর্বভারতীয় স্তরে। এরই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে দরকার ন্যূনতম প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস, যা এখনও পর্যন্ত স্কুলে হয়নি। তাই এই বিষয় নিয়েও আলাদা করে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্কুল শিক্ষকেরা। পাঠক্রম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে পড়ুয়াদের একমাত্র আশা এই বৈঠক।

তবে এই করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ চালু করার ক্ষেত্রেও বাড়ছে উদ্বেগ। রাজ্যের নবম ও দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখের কাছাকাছি। ফলে সমস্ত সুরক্ষাবিধি মেনে সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই বিষয় নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ অশোক মুখোপাধ্যায় জানান, “কিছুদিনের মধ্যেই টিচার-কাউন্সিল বৈঠক হবে। সেই অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে চলবে কলেজ। ক্যাম্পাসে ন্যূনতম ব্যবস্থা রাখা হবে”।

সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে কীভাবে পড়ুয়াদের সাবধানে রেখে তাদের আবার স্কুলে ফেরানো যায় ও নতুন কাটছাঁট পাঠক্রমে পড়ুয়ারা ঠিক কতটা উপকৃত হয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button