রাজ্য

‘দল ছাড়তে পারলে সব গুপ্তকথাই ফাঁস করতে পারতাম’, দিলীপের মন্তব্যের জবাবে তথাগত

দিলীপ ঘোষ ও তথাগত রায়ের বাকযুদ্ধ যেন থামবার নয়। তবে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির কথায় যে তিনি একেবারেই গুরুত্ব দেন না, তা আগেই জানিয়েছিলেন তথাগত রায়। আর এবারও ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন যে তিনি বিজেপি ছাড়বেন না। এরই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “দল ছাড়তে পারলে সব গুপ্তকথাই ফাঁস করতে পারতাম”।

একুশের নির্বাচনে বিজেপির হার নিয়ে এর আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান বিজেপি নেতাদের দুষেছেন। কখনও কৈলাস বিজয়বর্গীয়, কখনও বা দিলীপ ঘোষ তো আবার কখনও বা তারকা প্রার্থীদের বিজেপির হারের জন্য দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝে রীতিমতো বিপাকে পড়তে হয় দলের রাজ্য নেতাদের।

এই প্রসঙ্গে গতকাল, শনিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বলেন, “কতদিন আর লজ্জা পাবেন, দল ছেড়ে দিন। দল যাঁদের সবচেয়ে বেশি দিয়েছে। তাঁরাই দলের সলবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। আমাদের দুর্ভাগ্য এটা”। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোর্টে বল ঠেলেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে তথাগত রায় কোনও দায়িত্বে নেই। শেষ পর্যন্ত উনি কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই ওনাকে নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেবে”।

দিলীপের সেই দল ছাড়ার পরামর্শ এবার সপাটে উড়িয়ে দিলেন তথাগত। তিনি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় দল ছাড়ছি না। আমি আপাতত দলের সাধারণ সদস্য। এই অবস্থাতেই যাত্রার বিবেকের ভূমিকা পালন করে যাব”।

মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল এও ইঙ্গিত দেন যে বিজেপি থেকে যতদিন না তাঁকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, ততদিন তিনি এভাবেই রাজ্য নেতাদের ‘কীর্তি’ ফাঁস করে যাবেন। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে তথাগত দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের মতো নেতাদের হুঁশিয়ারিও শানিয়ে বলেন, “দল ছাড়তে পারলে সব গুপ্তকথাই ফাঁস করতে পারতাম কিন্তু এখনই তা হচ্ছে না”।

উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষের অনেক আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত তথাগত। মেঘালয়ের বিদায়ী রাজ্যপাল ২০০২-০৬ পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ছিলেন। এরপর প্রায় ৯ বছর বিজেপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার স্বরূপই তাঁকে দেওয়া হয় মেঘালয়ের রাজ্যপালের পদ। রাজ্যপাল পদে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন তিনি।

Related Articles

Back to top button