সব খবর সবার আগে।

লাল রঙে ছড়াছড়ি তৃণমূলের দৈনিক ‘জাগো বাংলা’য়, এত লালের আধিক্য কেন, জাগছে প্রশ্ন

আগেই ঘোষণা করেছিলেন, সেই কথা মতোই, আজ, ২১শে জুলাই থেকে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ দৈনিক ডিজিটালরূপে আত্মপ্রকাশ করল। ২০০৫ সাল থেকে এই সংবাদপত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হত।

তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আপাতত এই ‘জাগো বাংলা’ ই-পেপার রূপেই প্রকাশিত হবে। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে, তা প্রিন্টেড সংবাদপত্র হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন- মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহাসিক ডার্বির সেই রক্তাক্ত দিনকেই ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে বাছলেন মমতা

বেশ নতুন চেহারাতেই প্রকাশিত হল এই ‘জাগো বাংলা’। কিন্তু এর এই নতুন চেহারা নিয়েই বিস্ময় জেগেছে মানুষের মনে। কারণ জাগো বাংলা এই ই-পেপারে লাল রঙের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। জাগো বাংলা লেখাটা তো লাল বটেই, এরই সঙ্গে প্রতিটি পাতায় প্রতিটি বিভাগের শিরোনামও লাল রঙের করা হয়েছে। এমনকি, এই পেপারে একটি বাংলার মানচিত্রও দেওয়া হয়েছে যা কী না লাল রঙের।

এমন লাল রঙ ব্যবহারের কী কারণ, তা তৃণমূলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে মমতার উত্থান পর্বে লাল কিন্তু পরিত্যাজ্য। সিপিএমের সন্ত্রাস নিয়ে কথা বলতে গেলেও তিনি ব্যবহার করতেন লাল সন্ত্রাস শব্দটি। তৃণমূল সরকার গঠন করার পর দলের প্রতীকী রঙ হিসেবে তিনি স্থান দিয়েছেন নীল-সাদা রঙকে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই দলই আবার লাল রঙকে নিজেদের মুখপত্রে প্রাধান্য দিচ্ছে, তা দেখতে একটু বিষম খেতে হয় বই কী!

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশ ইচ্ছা করেই এই লাল রঙ ব্যবহার করেছে ঘাসফুল শিবির। এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডানপন্থী হলেও তাঁর চিন্তাভাবনা, পথচলাতে যে বামপন্থী ছাপ রয়েছে, তা প্রকাশের জন্যই এই প্রয়াস। তাঁর নানান কর্মসূচীর মধ্যেও পাওয়া যায় বামপন্থী মনোভাবের ছাপ।

আরও পড়ুন- ‘দয়া করে দেশকে বাঁচান’, একুশের মঞ্চ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে আর্জি জানিয়ে মোদী-শাহ্’কে তুলোধোনা মমতার

আসলে, সরকারিভাবে স্বীকার না করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে তাঁর দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে, তা তাদের নানান কাজকর্মে বেশ স্পষ্ট। সেই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য রাজনৈতিক উদারতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরতেই সম্ভবত বেশ সচেতনতার সঙ্গেই ‘জাগো বাংলা’-কে লাল রঙে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...