রাজ্য

আততায়ীর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত ৩০০ গ্রাম সোনা, আদালতে জমা না করে সেই সোনা নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নিলেন তিন পুলিশ অফিসার

পুলিশ মানুষের রক্ষাকর্তা। কিন্তু সেই পুলিশই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন গোটা পুলিশজাতির উপর থেকেই ভরসা উঠে যায় মানুষের। বাজেয়াপ্ত সোনা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বেলঘরিয়া থানার তিন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে।

বাজেয়াপ্ত করা সোনা কন আদালতে বা মালখানায় জমা করা হল না বা যার কাছ থেক সোনা উদ্ধার করা হল, তাকে কেন গ্রেফতার করা হল না, এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। বারাকপুর পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিনকয়েক আগে বনগাঁর এক ব্যক্তিকে সোনা-সহ আটক করেন বেলঘরিয়া থানার পুলিশ। কামারহাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সেই ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে খবর। এরপর ছেড়ে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। কিন্তু পরে জানা যায় যে ওই বাজেয়াপ্ত সোনা আদালতে জমাই করা হয়নি।

এই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বনগাঁর ওই ব্যক্তি। এরপর তিনি ফের উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তাদের দ্বারস্থ হন। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারের তরফে এই বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বেলঘড়িয়া থানার তিন পুলিশ আধিকারিক। তাদের নাম ওসি গৌরব বন্দ্যোপাধ্যায়, কনস্টেবল মিলন ঘোষ ও সাব ইন্সপেক্টর শেখ মাঞ্জা।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে যে কেন অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হল না? অভিযোগ, ওই সোনা উদ্ধারের পর নিজেদের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নিয়েছেন ওই তিন পুলিশ আধিকারিক। তাদের বিরুদ্ধে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই তাদের জেরা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, এই বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই যা বলার বলবে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফেও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

Related Articles

Back to top button