সব খবর সবার আগে।

প্রতিবন্ধী বিজেপি কর্মীকে মেরে বাড়ি থেকে তাড়ানোর অভিযোগ, অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী

তৃণমূল সরকার ‘জোর যার মুল্লুক‌ তার’ প্রবাদ বাক্যকে দীর্ঘদিন ধরেই সত্যি করে আসছে, অভিযোগ বিরোধীমহলের। গ্রামগঞ্জে গরিব মানুষের উপর তৃণমূল কর্মীদের অত্যাচার করার ঘটনা নিয়ে প্রায়শই সরব হয় বিজেপি। যেখানে সেই মানুষগুলোর বিজেপি সদস্য হওয়া অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়।

এবারেও সেই একই ঘটনা ঘটল মালদাতে। মালদার ইংলিশবাজার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এর এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মারধর করে সপরিবারে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর স্ত্রী ইংলিশবাজার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এর কাউন্সিলার কাকলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তির ‘অপরাধ’ তিনি বিজেপির সদস্য!

মৃত্যুঞ্জয় সরকার নামে এই ব্যক্তি আমাদের প্রতিনিধিকে রীতিমতো কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন, কাকলী দেবী দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে চড়াও হন তাদের বাড়ি দখল করবেন বলে। মৃত্যুঞ্জয়ের বাবুর একমাত্র সম্পত্তি এই বাড়িটাই, তাই তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি এই বাড়িটি তৃণমূলের হাতে তুলে দিতে। কিন্তু কাকলী দেবী ও স্থানীয় গুন্ডা রাজার উপস্থিতিতে এই হামলাকারী দল মৃত্যুঞ্জয় বাবুকে প্রবল মারধর করে এবং তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, তিন বছরের ছোট্ট শিশুকে রীতিমতো অত্যাচার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ। তারপরেই সেই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন কাকলী দেবীর অনুগামীরা। প্রাণভয়ে সপরিবারে মৃত্যুঞ্জয় বাবু স্থানীয় বিজেপি পার্টি অফিসে আশ্রয় নেন। থানায় যাওয়া হলেও তাদের অভিযোগ নেওয়া হয় না বরং থানার মেঝেতে মৃত্যুঞ্জয় বাবুকে তিন ঘণ্টা টানা বসিয়ে রাখা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে সরগরম পড়ে গিয়েছে। বিজেপি কর্মীরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ গোটা ঘটনায়। দলের এক সদস্যের এই ভাবে অত্যাচার কোনভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিজেপি-র তরফ থেকে। যদিও তৃণমূলের বাঁধাধরা বক্তব্য, এতে তাদের কোনো দোষ নেই। গোটা ঘটনাই নাকি বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল!

রিপোর্ট: শঙ্কর দুবে, মালদা

You might also like
Comments
Loading...