রাজ্য

সমাজসেবা করে প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই ও তাঁর স্ত্রী, হলফনামা জমা পুরভোটের প্রার্থী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের

আগামী ১৯শে ডিসেম্বর রয়েছে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী, আজ নির্বাচন কমিশনে নিজের সম্পত্তির হলফনামা জমা দেন তিনি।

এই হলফনামা থেকেই উঠে এল নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। তৃণমূল প্রার্থীর এই জমা করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ও তাঁর স্বামীর দু’জনের মিলিয়ে তাদের মোট ১৩টি জমি রয়েছে যার মূল্য কোটি কোটি টাকা। আর এই তথ্যই কার্যত শোরগোল ফেলেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এই হলফনামায় দেখা গিয়েছে যে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু এফডি রয়েছে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামেই। বর্তমানে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনাদানার পরিমাণ ৪০০ গ্রাম যার বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

আপাতত তৃণমূল প্রার্থীর হাতে রয়েছে নগদ ৫৬ হাজার ২১৮ টাকা। সোনাদানা, ব্যাংকে জমানো টাকা ও এফডি মিলিয়ে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। এরপর হলফনামায় দেখা গিয়েছে যে তাঁর বা তাঁর স্বামীর নামে কোনও চাষযোগ্য জমি নেই।

তবে চাষ অযোগ্য অর্থাৎ বেশ দামী জমি রয়েছে তাদের অনেকগুলি। হলফনামা অনুযায়ী, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী মিলিয়ে তাদের মোট ১৩টি জমি রয়েছে যার মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। কিন্তু হলফনামা অনুযায়ী, তাদের সেই জমিগুলি যেসমস্ত জায়গায় রয়েছে সেই অনুযায়ী হলফনামায় তারা জমি কেনার যে মূল্য ধার্য করেছেন, তা নিতান্তই কম।

অর্থাৎ, কলকাতায় ওই দামের জমি কিনতে পাওয়া যায় না। এর থেকে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তাহলে কী প্রভাব খাটিয়ে সেই জমি কেনা হয়েছিল? হলফনামায় দেখা গিয়েছে সেই জমিগুলি কেনা হয় ২০১৬ সালেই। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার সময়ই তাঁর পরিবারের তরফে ১৩টি জমি কেনা হয়ে যায়। আর এই জমি পৈতৃক সম্পত্তি নয়।

এই হলফনামাতে দাবী করা হয়েছে যে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী সমাজসেবী। এর থেকে সকলের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, সমাজসেবী হয়ে কারোর কাছে ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা কী সম্ভব। তাদের আয়ের আসল উৎস কী? তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার এমন অভিযোগ ওঠে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের নামে অনেক জমি রয়েছে খোদ কলকাতাতেই। এমনও অভিযোগ করা হয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের টালির বাড়িতে থাকলেও, তাঁর পরিজনরা বেশ সহজেই অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। আর আজ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হলফনামা দেখে বিরোধী পক্ষের সেই অভিযোগে যেন সিলমোহর পড়ল। তৃণমূল প্রার্থীর এই হলফনামা দেখে হতবাক রাজ্যবাসীও।

Related Articles

Back to top button