রাজ্য

সামান্য স্কুল নির্বাচনে হেরেই তাণ্ডব করলেন তৃণমূল কাউন্সিলর, ছিনতাই হল ব্যালেট বক্স, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ স্থানীয়দের

স্কুলের একটি সামান্য নির্বাচন নিয়েই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী হতে চলেছে, তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না আমজনতা থেকে বিরোধী মহল সকলে। গত মঙ্গলবার ছিল খড়গপুরের তেলেগু বিদ্যাপীঠের পিআইই প্রতিনিধি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে হেরে তৃণমূল কাউন্সিলর যে কাণ্ড ঘটালেন, তাতে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর বান্টা মুরলী ও ওই এলাকারই প্রাক্তন শিক্ষক এম কালি দাস। শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি মিলিয়ে ভোটার ছিলেন ১১ জন। ভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও গোল বাঁধে ভোটের ফলাফল নিয়ে। দেখা যায় ৭-৪ ভোটে হেরে যান তৃণমূল কাউন্সিলর বান্টা মুরলী।

সেই পরাজয় কার্যত মেনে নিতে পারেন নি তিনি। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হেরে যাওয়ার পর কাউন্সলিরের নির্দেশে তাঁর কর্মী-সমর্থকরা স্কুলে তাণ্ডব চালায়। এমনকি, কাউন্সলিরের লোকজন ব্যালেট বক্স ছিনতাই করে বলেও অভিযোগ। বান্টা মুরলী চাপ দেন যাতে এই ফলাফলে গুরুত্ব না দিয়ে পুনর্নির্বাচন করা হয়। বিদালয়ের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিজয়ী প্রার্থী এম.কালি দাস অভিযোগ খড়গপুর টাউন থানায় জানান। এই ঘটনার বিষয়ে বুধবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেলেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে তিনি আতঙ্কে আছেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে বান্টা জানিয়েছেন, “আমাকে অভিভাবকরা আগেই পিআইই প্রতিনিধি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। স্কুল সেটা মানেনি। উল্টে নির্বাচনে কারচুপি করেছিলেন প্রাক্তন ওই শিক্ষক মশাই। তাই, পুনরায় নির্বাচনের নোটিস দেওয়া হয়েছে”।

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি যদি গন্ডগোল করতেই চাইতাম, তাহলে তো নির্বাচনে হারতামই না! যা হোক করে জিতে যেতাম”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “আপনারাই বুঝে নিন, রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন কীরকম হবে। মুখ্যমন্ত্রী যতই ওই সমস্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বুলি আওড়ান না কেন, যাঁরা সামান্য স্কুল নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই করে, তাদের অভিসন্ধি বোঝাই যাচ্ছে”।

Related Articles

Back to top button