সব খবর সবার আগে।

মিনাখাঁয় আমফান ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেয়নি তৃণমূল, ফের প্রকাশ্যে দলীয় দুর্নীতি

বিরোধীরা যা আশঙ্কা করেছিলেন ঠিক তাই হল। ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য পরিবার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যে টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল সেই নিয়ে দুর্নীতিতে জড়ালেন তৃণমূল নেতারা।

উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটের মিনাখাঁয় আজ সকাল থেকেই ছিল প্রবল উত্তেজনা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ তৃণমূল পঞ্চায়েতের যে সভাপতি রয়েছেন তিনি কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যে টাকা এসেছে তা নিয়ে নয়ছয় করেছেন। যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কাছে এই টাকা পৌঁছায়নি কিন্তু সভাপতির ঘনিষ্ঠ পরিবারগুলোতে মাথাপিছু টাকা পৌঁছে গিয়েছে। অথচ সেই পরিবারগুলির বাড়ি ও বাকি সম্পত্তি ঘূর্ণিঝড়ে নষ্টই হয়নি। সাধারণ গ্রামবাসীদের অভিযোগ এদের পাকা বাড়ি আছে অথচ এদেরকে এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকার থেকে পরিবারপিছু কুড়ি হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ঘনিষ্ঠ পরিবারগুলিতে সদস্য পিছু কুড়ি হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে।

স্বাভাবিকভাবেই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গ্রামবাসীরা। সকাল থেকেই এলাকায় রয়েছে প্রবল উত্তেজনা, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তৃণমূল পঞ্চায়েত সভাপতির বাড়িও ভাঙচুর করেন। এলাকায় নামে র‍্যাফ।

কিন্তু ঘটনায় তৃণমূলের কী বক্তব্য?

মিনাখাঁ ব্লকের কার্যকরী সভাপতি সন্তোষ মন্ডল অবশ্য পুরো দোষ বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়েছেন। তার দাবি তৃণমূল সরকার কেন্দ্র থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের যে সাহায্য করছেন সেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাকে প্রতিহত করার জন্য বিজেপির লোকেরাই বিভিন্ন চক্রান্ত করছে।

যদিও বিজেপি নেতা সৌম্য সাহা বলছেন, “যা জবাব দেওয়ার তা সাধারণ মানুষই দিচ্ছেন। তৃণমূলের এই ঘটনায় তারা এতটাই ক্ষুব্ধ তারা নিজেরাই জড়ো হয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সুবিধার জন্য এই সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার এই টাকা নিয়ে দুর্নীতি করছে। এর সঙ্গে এলাকার বিধায়কও জড়িত আছেন।”

এলাকায় এখনও মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও র‍্যাফ। গ্রামবাসীরা এখন তাদের হকের ক্ষতিপূরণ ফেরত চাইছেন। এই প্রসঙ্গে যাতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তার আর্জিও জানানো হয়েছে গ্রামবাসীদের তরফে।

You might also like
Leave a Comment