সব খবর সবার আগে।

দিনে তৃণমূল, রাতে বিজেপি, মন্ত্রীর প্রাণপ্রিয়দের রং বদলের দোষে ভোটে হেরেছি! অনুব্রত’র সামনে কবুল তৃণমূল বুথ সভাপতির!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly election) মুখে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়ালেন এক তৃণমূল বুথ সভাপতি। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) সামনে দাঁড়িয়ে জানালেন নিজ এলাকায় ভোটে হারার জন্য দায়ী মন্ত্রী। রবিবার অর্থাৎ গতকাল মহঃবাজারে একটি কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত কর্মিসভায় মহঃবাজার ব্লকের ২৪১ নং বুথের বুথ সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সামনের সরাসরি অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায় ভোটে হারার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন ১ মন্ত্রী।

ওই সভায় অনুব্রত মণ্ডল ওই বুথ সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কত ভোটে হেরে আছো?’ উত্তরে বুথ সভাপতি বলেন, ‘১৮১ ভোটে’। এরপরই হারার কারণ জিজ্ঞাসা করেন বীরভূম জেলা সভাপতি।

আর এই প্রশ্ন শুনে ঝটপট ওই বুথ সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে জানান, ‘আমাদের মন্ত্রীর দোষে।’ তাঁর এই উত্তর শুনে সভায় উপস্থিত তৃণমূল নেতারা ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই বুথ সভাপতি বলেন, ‘সত্যি কথাটা বলতে দিন’। আর এর পরেই তাকে বলতে দেওয়া হয়।

নিজের বক্তব্য বুথ সভাপতি জানান “আমাদের ওখানে যে একজন আছে মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় সে দিনে তৃণমূল, রাতে বিজেপি। সে তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপিকে দিয়েছে। তার জন্য আমার হার। পঞ্চায়েত ভোটে পাঁচটা ভোটে এগিয়ে ছিলাম, যেখানে সিপিআইএমের আধিপত্য ছিল। কিন্তু তৃণমূলের ভোট পেয়ে ছিলাম। সেটা না দেখে আমাদের বিভিন্নভাবে হ্যারেস করেছে। কোন ব্লক নেতৃত্ব কোন সহযোগিতা করেন নাই। ওইটা যতদিন না ঠিক করতে পারবেন তত দিন আপনারা যতই বলুন কোন‌ও মতেই রিকভারি করতে পারবেন না। আমি এখানে বলে গেলাম আজকে।

মূলত ওই তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ এলাকার অন্য এক তৃণমূল নেতা রাকেশের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ শুনে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বিচক্ষণতার সাথে ওই তৃণমূল কর্মীকে শান্ত করেন। পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডল ব্লক নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন রাকেশকে অঞ্চলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ব্লকের দায়িত্বে আনার জন্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এলাকার ওই বুথ সভাপতি সেই এলাকা রামপুরহাট বিধানসভার অন্তর্গত। যে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়(Ashish Bandopadhyay)। যদিও ওই তৃণমূল বুথ সভাপতি সরাসরি ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি।

You might also like
Comments
Loading...
Share