রাজ্য

পরিষেবা দিতেই হবে হাসপাতালগুলিকে! স্বাস্থ্যসাথীতে বকেয়া কোটি কোটি টাকা, তাও এই ঘটনাকে ‘সাময়িক সমস্যা’ বলে যুক্তি রাজ্যের

রাজ্যের সাধারণ মানুষ, অসহায়, গরীব মানুষের কথা ভেবেই রাজ্য সরকারের তরফে আনা হয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে ভালমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের আওতায় ছিল রাজ্যের নানান বেসরকারি হাসপাতালও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাধের প্রকল্প যেন মুখ থুবড়ে পড়ছে।

রাজ্যের বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী, এই প্রকল্পে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসপাতালের বিল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। এই নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠিও দেয় বেসরকারি হাসপাতালগুলি। তাদের তরফে এও বলা হয় যে বকেয়া টাকা না মেটালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে আর পরিষেবা দেওয়া হবে না রোগীদের।

তেমনটাই হয়েছে। অনেক হাসপাতালেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। গ্রহণ করা হচ্ছে না স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। আর এর জেরে কার্যত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আমজনতাকে। এমন যে বিপত্তি ঘটেছে তা স্বীকারও করে নিয়েছেন তৃণমূল নেতা তাপস রায়।

গতকাল, শনিবার তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে অনেকের জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। হাসপাতালকে ভর্তি নিতে হবেই। না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসে”। এই সমস্যাকে একটি সাময়িক সমস্যা বলেই দেগেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর কথায়, “১৩০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। মিটেও যাবে। স্বাস্থ্য সাথী নিয়ে সমস্যা হবে না”।

বলে রাখি, জানা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা, মালদার নানান বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে চিকিৎসা করাতে গেলে রোগী ও তার পরিজনদের বেশ হয়রান হতে হচ্ছে। নেওয়া হচ্ছে না সেই কার্ড। হাসপাতালেরও দাবী যে তাদেরও কিছু করার নেই।

এই বিষয়ে, মালদার এক বেসরকারি নার্সিংহোমের কর্ণধার চিকিৎসক এস এন শর্মা বলেন, “খরচ বহুল চিকিৎসার পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় যে প্যাকেজগুলি রাখা হয়েছে, সেই মূল্য দিয়ে আমাদের চালাতে সত্যিই অসুবিধা হচ্ছে। সেখানে নিশ্চয়ই সরকার সদয় হয়ে সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে এই প্যাকেজগুলির পুনরায় রিওরিয়েন্টেশন করবে”।

Related Articles

Back to top button