রাজ্য

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জের, বাবাকে মারধর করে রাতের অন্ধকারে নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গেল তৃণমূল নেতা, নিষ্ক্রিয় পুলিশ

তৃণমূলের যুব সভাপতির বিরুদ্ধে নবম শ্রেণীর নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠল। রাতের অন্ধকারে নাবালিকার বাবাকে মারধর করে নাবালিকাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদা থানা এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বিজয়া দশমীর রাতে। অভিযোগ, ওইদিন এক নম্বর কসবা অঞ্চল যুব সভাপতি আনন্দ দাস দলবল নিয়ে ওই নাবালিকার বাড়ি যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানা এলাকার কৈথড় গ্রামের বাসিন্দা সে। অভিযোগ, ওই রাতেই জোর করে নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতে বাধা দেন নাবালিকার বাবা। তাঁকে মারধর করা হয়।

অভিযোগ, নাবালিকার বাবা ও মাকে প্রয়োজনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদা থানা এলাকার মশাগাঁ গ্রামের বাসিন্দা নাবালিকার বাবার দাবী, বেশ কয়েকদিন ধরে আনন্দ দাস তাঁর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল। কিন্তু বারবারই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নাবালিকা। অভিযোগ, ওই যুবক নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নাবালিকাকে উত্যক্ত করত।

অপহরণের পর বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি ওই নাবালিকার। নাবালিকার বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন। মারিশদা থানায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ সেভাবে কোনও পদক্ষেপই নেয়নি বলে অভিযোগ।

গতকাল, শুক্রবার অবশেষে ওই যুব তৃণমূল নেতার বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানে সেই সময় কেউ ছিল না। অনুমান, যুব তৃণমূল নেতা ও তার পরিবার কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে। অভিযুক্ত নেতার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। নাবালিকাকেও খোঁজা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক দলের যুবনেতার এই কাণ্ডকে হাতিয়ার করেই শাসক দলকে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কথায়, এই রাজ্যে কোনও নারীই সুরক্ষিত যে নয় তা ফের প্রমাণ হল। এই ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দলও। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে যে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে অভিযুক্তকে।

Related Articles

Back to top button