রাজ্য

‘তৃণমূল কোম্পানি ভালো, এর প্রোডাক্টও ভালো, শুধু প্রোডাক্টের ফেরিওয়ালাগুলোই খারাপ’, তৃণমূল নেতার মন্তব্যে তুমুল শোরগোল রাজ্য-রাজনীতিতে

আবাস যোজনায় দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে নানান অভিযোগ উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন যে যারা যোগ্য, তারাই এই যোজনায় ঘর পাচ্ছেন না আর অন্যদিকে টাকা নিয়ে অযোগ্যদের ঘর পাইয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। এবার এই আবাস যোজনায় দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জলপাইগুড়ি তফশিলি জাতি-উপজাতির তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। তাঁর কথায়, “যে ঘুষ দেয়, সে আগে দোষী। নেতারা পরে দোষী”।

গত রবিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল প্রভাবিত ফ্যাসিবাদী বিরোধী গণ মঞ্চের আহ্বানে এক জনসভা ছিল। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নানান জেলার তৃণমূল নেতারা। সেদিনের সভামঞ্চ থেকে এই ভাবেই গ্রামবাসীদের সতর্ক করলেন তৃণমূল এসটিএসসি ওবিসি সেলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস।

এদিন কৃষ্ণ দাস বলেন, “আপনারা টাকাও দেবেন। আবার কাজ না হলে তৃণমূলের বদনাম করে বেড়াবেন। এটা চলতে পারে না”। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভালো কোম্পানি।  এই কোম্পানির প্রোডাক্ট ভালো। কিন্তু প্রোডাক্টের ফেরিওলারগুলি খারাপ”।

এরপর নিজের দল প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতাদের চরিত্রের জন্যে আজকে এই দশা। আমাদের নেতা অনেক পোস্ট পেয়ে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। মানুষকে হুমকি দিয়ে বলে আমি ব্লক সভাপতি। আমি জেলা সভাপতি। আমিই জেলা সম্পাদক। চেনেন আমাকে? এক মিনিটে চাকরি খেয়ে নেব। এরাই তৃণমূলকে দুর্বল করছে”।

এই গোটা ঘটনায় বিজেপি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলে, “তৃণমূল আসলে টাকা মারা কোম্পানি। এই দলে সবাই চোর। এদের দলে একটাই পোস্ট আর বাকি সবাই ল্যাম্প পোস্ট। এরা যা চুরি করে তার ২৫ শতাংশ নিজেদের জন্য রেখে দিয়ে বাকি টাকা কালিঘাটে পাঠায়। মানুষ সব জানে। এদের আর বিশ্বাস করে না। তাই এইসব বলে কোনও লাভ নেই”।

Related Articles

Back to top button