রাজ্য

বিজেপির মিছিলে তৃণমূলের হামলা, বিজেপি কর্মীদের লাঠি দিয়ে পেটালেন তৃণমূল বিধায়ক, চরম উত্তেজনা চুঁচুড়ায়

নিয়োগ দুর্নীতির (recruitment scam) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করেছিল বিজেপি (BJP)। শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল মিছিল। এরই মাঝে মিছিলের মধ্যেই বিজেপি কর্মীদের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যান তৃণমূল (TMC) বিধায়ক অসিত মজুমদার (Asit Majumdar)। অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়ককে হেনস্থা করেছে বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার (Chuchura) খাদিনামোড়ে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

জানা গিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার খাদিনামোড়ে মিছিল ছিল বিজেপির। চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের অভিযোগ আনেন যে এই মিছিলের কারণে সমস্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। কোনওভাবে তাঁর গাড়ি এগিয়ে যেতেই জনা তিরিশেক ছেলে এসে তাঁর গাড়ির উপর হামলা করে বলে অভিযোগ। বিধায়কের নাম ধরে চোর বলেন বলেও দাবী করেন অসিত মজুমদার।

এরপরই বিজেপির কর্মীদের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যান অসিতবাবু। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমি কলকাতা থেকে ফিরছিলাম। ব্যাপক জ্যাম। ২৫-৩০টা লোক। বলছে, তৃণমূলের সব চোর চোর। আমি মিছিলটা ক্রস করে এগিয়ে এসেছি, তখনই বলে ওঠে, গাড়ি কেন এগোল ? তারপরই আমার উপর হামলা। পার্টি অফিসে আমাদের মেয়েদের মিটিং চলছিল। মেয়েরা বেরিয়ে আসে। পাল্টা মার দিতেই ওরা পালায়। ধাক্কাধাক্কি তো করেছে”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “গত ১০ বছরে কোনও তৃণমূল বিধায়ক বিজেপি কর্মীর দ্বারা হেনস্থা হয়েছে বললে অফিসের চেয়ার-টেবিলগুলো পর্যন্ত হেসে উঠবে। তৃণমূল কংগ্রেস একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে গণতন্ত্র কার্যত বিলুপ্ত। পুলিশ এবং তৃণমূল কংগ্রেস যৌথভাবে বিরোধীদের আক্রমণ করেছে, রক্তাক্ত করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে এপর্যন্ত আমাদের ২০০ কর্মী শহিদ হয়েছেন”।

তিনি আরও বলেন, “চুঁচুড়ার খাদিনামোড়ের মতো একটি বহু ঐতিহ্যপূর্ণ জায়গায় , যেখানকার সংস্কৃতি নিয়ে বাংলা এবং বাঙালি গর্ববোধ করেন, সেখানে বিজেপির একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে যদি বিধায়ক লাঠি নিয়ে নেমে এসে মারামারি করেন, তাহলে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কী। আসলে তৃণমূলের বিনাশকাল এসে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে এই আচরণ করছেন, আতঙ্ক এবং হাতাশা থেকে । অসিত মজুমদার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী। তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলে এই আচরণ করছেন, তার কারণ কী ? কারণ, তিনিও বুঝতে পারছেন সেদিনের আর বেশি দেরি নেই। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। মানুষ খেপে উঠেছেন। মন্ত্রীর ওপর একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত গৃহবধূ জুতো ছুড়ছেন। যদিও সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু, জনরোষ এবং ক্ষোভ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছেন”।

Related Articles

Back to top button