রাজ্য

বামেদের পার্টি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন তৃণমূল বিধায়ক, স্বাধীনতা দিবসে এক বিরল ঐক্যের সাক্ষী থাকল পাণ্ডবেশ্বর

রাজনৈতিকগত দিক দিয়ে তারা একে অপরের চিরকালের বিরোধী। যে কোনও বিষয়ে একে অপরকে আক্রমণ করতে, শানাতে কসুর করে না কেউই। আর সম্প্রতি পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) গ্রেফতারির পর তা যেন আরও বেশি প্রকট হয়েছে। তবে স্বাধীনতা দিবসে সমস্ত বিরোধিতা ভুলে এক বিরল ঐক্যের উদাহরণ স্থাপন করল সিপিএম (CPM) ও তৃণমূল (TMC)।

স্বাধীনতা দিবসের দিন সিপিএমের পার্টি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা গেল তৃণমূল বিধায়ককে। এমনই বিরল এক ঐক্যের দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর। এই বিধানসভার নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম কিষান ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

সূত্রের খবর, এদিন গাড়ি করে যাচ্ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। সেই সময় তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে সিপিএম কর্মীরা তাঁকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার জন্য অনুরোধ করেন। এরপরই সিপিএমের পার্টি অফিসে তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আজকের এই শুভ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোনেও ব্যাপারে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। আমি যেহেতু এই এলাকার বিধায়ক তাই তাঁরা অনুরোধ করেন এবং সেই মোতাবেক আমি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। ওরা আমার ভাইয়ের মতো”

তবে কিছুটা হলেও রাজনৈতিক রং চড়িয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৎকালীন জ্যোতি বসুর সরকার রাইটার্স বিল্ডিং থেকে চুলের মুঠি ধরে বার করে দিয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করলে তিনি সিপিএম নেতৃত্বকে ফিসফ্রাই খাইয়েছিলেন”।

আবার এই বিষয়ে আজমপুর সিপিএমের নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রাক্তন প্রধান কাঞ্চন মুখার্জি বললেন, “মাননীয় বিধায়ক আমাদের ঘরের মানুষ। এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আমরা সকলে একত্রিত”।

প্রসঙ্গত, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর আনন্দে মেতেছিলেন বাম নেতা-কর্মীরা। গুড়, বাতাসা, নকুলদানা বিলি করে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল তাদের। শাসক দলকে শানাতেও বাদ যায়নি বামেরা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসে বামেদেরই পার্টি অফিসে তৃণমূল বিধায়কের জাতীয় পতাকা উত্তোলন যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button