রাজ্য

‘৭ দিন সময় দিলাম, কী করে সোজা করতে হয় দেখিয়ে দেব’, থানার ওসিকে হুমকি তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের, তুঙ্গে বিতর্ক

পুলিশের বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। থানার পাশের জমিতে পার্ক তৈরির অভিযোগ তোলা হয় পুলিশের (police) বিরুদ্ধে। হুমায়ুন কবীর সেই কাজে বাধা দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে গত শনিবার থানা ঘেরাও করে তৃণমূল কর্মীরা। এর পাশাপাশি থানার ওসিকে অপসারণের দাবী তোলেন হুমায়ুন কবীর।

হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, এসপির কাছে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি তিনি। এই কারণে এবার বাধ্য হয়ে প্রশাসনের অসহযোগিতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীএ কাছে নালিশ জানাত চলেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেবেন বলে জানান তিনি। বিধায়কের অভিযোগ, “পুলিশ শাসক দলের বিধায়কের ফোনটাই ধরে না। সমস্যার সমাধান এরা করতে চায় না৷ সমস্যা জিইয়ে রাখছে”।

হুমায়ুন কবীর বলেন, “যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে এবার ২০০ গণ্ডি পেরিয়ে যাবে তখন ওসি রাজু মুখোপাধ্যায়ও বলেছিলেন এবার আর তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে পারবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের সময় বিজেপির হয়ে কাজ করছেন ওসি। ওসির বিরুদ্ধে বহুবার এসপিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে কোনও গুরুত্ব দেননি তিনি। এছাড়া বিডিওর নামে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়েও কোনও গুরুত্ব দেননি তিনি”।

এবার ওসি-বিডিও-কে ডেডলাইন দিলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, “৭ দিন সময় দিলাম, কী করে সোজা করতে হয় জানিয়ে দেব। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। ৭ দিন দেখব, তারপরেই সিদ্ধান্ত জানাব ভোটে বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন ভরতপুরের ওসি। পুলিশ সুপারকে বলেও কোনও কাজ হয় নি। বিডিও-র বিরুদ্ধেও জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। বিডিও এমন কাজ করছেন, যেন এলাকার মস্তান”। এই বিষয়ে ওসি-বিডিও-র কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার দুপুরের দিকে। ভরতপুর থানার সামনে সরকারি জায়গা ঘিরে ধরে পুলিশ। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন পুলিশকে সেই জায়গা ঘিরতে বাধা দেয়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বচসা, অশান্তি। সন্ধ্যের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভরতপুর বিধানসভার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর নেতৃত্বে থানার সামনে কান্দি-কাটোয়া রাজ্য সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলে। বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে থানায় এই নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও লাভ হয়নি।   থানার বাইরে বেরিয়ে এসে হুমায়ুন কবীর ভরতপুর থানার ওসি রাজু মুখোপাধ্যায়কে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তৃণমূল কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। বেশ ধ্বস্তাধস্তি চলে তাদের মধ্যে। কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ওই এলাকা। 

Related Articles

Back to top button