রাজ্য

‘বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছেনা, আমাকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা চলছে’, দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জাহির করে তোপ তৃণমূল সাংসদের

দীনেশ ত্রিবেদি যখন তৃণমূল ছাড়েন, সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নাকি তাঁকে বলার সুযোগ দেন না। সেই ডেরেক ও’ব্রায়েন এখনও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। আর এবার ফের এমনই এক অভিযোগ তুলে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন আরও এক তৃণমূল সাংসদ।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার বলেন, “তৃণমূলের ভিতরের রাজনীতি নিয়ে আমার বিশেষ জানা নেই। তা ছাড়া আমাকে দলে নেওয়াও হয়েছিল বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। তবে আমাকে চেপে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছ”। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল যে কে বা কারা তাঁকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা করছেন? কেনই বা তাঁকে রাজ্যসভায় বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?

এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে দাবী, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। নতুন সাংসদ হিসাবে রাজ্যসভায় জহর সরকারকে যত মিনিট বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা অন্য কেউ পান নি। বরং বলা যেতে পারে সবচেয়ে বেশি সুযোগ ওঁকেই দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরে তিনি অস্বস্তি নিয়ে তৃণমূলে রয়েছেন বলে দাবী করেন জহর সরকার। গতজাল, সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবী করেন যে দলের একটা দিক পচে গিয়েছে। এমন দল নিয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করা সম্ভব হবে না। বাড়ির লোকেরা ও বন্ধুবান্ধবেরা তাঁকে রাজনীতি ছাড়তে বলেছেন বলেও দাবী করেছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, “এক সাইড পচা শরীর নিয়ে ২০২৪ সালে লড়াই করা মুশকিল”।

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে জোহর সরকার বলেন, “পার্থবাবুকে তো শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দেখেছি। কথাও বলেছি অনেক বার। টিভিতে দেখে আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ও রকম ভদ্রলোকের ইমেজ। তিনি কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু দুর্নীতির টাকা দিয়ে তাঁকে অলঙ্কৃত করা। এটা দেখলে কী রকম গা শিরশির করে”।

তিনি এও বলেন যে তিনি পার্টির ভিতরে প্রশ্ন করেছিলেন, এসব কি কেউ জানতেন না? কিন্তু তাঁকে কেউ কেউ বলেছিলেন যে এতটা জানা ছিল না আবার প্রাক্তন এই আমলা এও বলেছিলেন, দলে যে সবসময় তাঁকে ডাকা হয় তা নয়। কেউ কেউ চেপে দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

জহরবাবু দলের দুর্নীতি নিয়ে যেভাবে সোচ্চার হয়েছেন, তার ফলস্বরূপই কী তাঁকে রাজ্যসভায় বলার থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, এমন প্রশ্নও উঠেছে। এই বিষয়ে দলের এক সাংসদ বলেন, “এঁরা অরাজনৈতিক লোক, সুবিধাবাদীও বলা যেতে পারে। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূলে সামিল হওয়ার সাত বছর আগে চিটফান্ড দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও এক মন্ত্রী জেলে গেছিলেন। নারদ কাণ্ডে দুই মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছিল। সে সব দেখেই তো তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি”।

debangon chakraborty

Related Articles

Back to top button