রাজ্য

‘আমাদের বিধায়ক তো মাতাল’, দলের নেতার সম্পর্কেই বিস্ফোরক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান, নেতার মন্তব্যে অস্বস্তিতে শাসকদল

বর্তমানে রাজ্যের ঘাড়ে চেপে বসেছে একের পর এক দুর্নীতির (corruption) অভিযোগ। এর জেরে রাজ্য সরকার বেশ বিব্রত। আর এরই মাঝে মাথাচাড়া দিয়েছে দলের অন্তর্দ্বন্দ্বও (inner clash)। সব মিলিয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা হওয়ার জোগাড় শাসক শিবিরের (TMC)। এহেন পরিস্থিতিতে এবার ফের দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন দলেরই পঞ্চায়েত প্রধান (panchayet head)।

ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝার চা বাগান এলাকায়। গতকাল, মঙ্গলবার ওই এলাকার ফুটবল ময়দানে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষ্যে তৃণমূলের তরফে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা তো ছিলেনই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হেমব্রেম ও আরও নানান নেতারা।

আসলে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ পড়ে রয়েছে জলপাইগুড়ির রায়পুর চা বাগান। এর ফলে একাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই গতকাল হেমব্রম বলেন, “আমাদের বিধায়ক মাতাল। বাদ দিন ওর কথা। নিজের ঘরই ঠিক মতো সামলাতে পারে না। আমাদের কথা উনি কি ভাববেন”।

ভরা মঞ্চে প্রকাশ্যে এলাকার বিধায়ক সম্পর্কে খোদ দলেরই নেতা এমন মন্তব্য করায় প্রথমে হাসির রোল উঠলেও পরবর্তীতে এই নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়। পঞ্চায়েত প্রধানের এহেন মন্তব্য যে শাসক দলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে হঠাৎ বিধায়ক খগেশ্বর রায় সম্পর্কে এমন মন্তব্য কেন করলেন পঞ্চায়েত প্রধান, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

পঞ্চায়েত প্রধানের কথায়, “যখন ভোট আসে, তখন রাজনৈতিক দলগুলি এখানে এসে কেবলমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়। তবে একবার ভোট মিটে গেলে তারা আর ফিরেও তাকায় না। আদিবাসীদের ভোট নেওয়া হয়ে গেলেই তাদের উদ্দেশ্য মিটে যায়। বিগত বহুদিন ধরে চা বাগান বন্ধ পড়ে থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না”।

এরপর এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। তাঁর কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান বন্ধ হয়ে রয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হতে চলেছে। এখানে আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে চা বাগান বহুদিন ধরে বেড়ে চলেছে। এটাই আমাদের সংস্কৃতি”।

Related Articles

Back to top button