রাজ্য

‘কেষ্ট বেটাই চোর’, জন্মাষ্টমীতে আমূলের ভাইরাল বিজ্ঞাপন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?

দেখতে গেলে সেটি শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞাপনই বটে। জন্মাষ্টমীতে শুভেচ্ছা জানাতে আধখাওয়া মাখনের ছবি। এ নিয়ে কোনও গণ্ডগোল নেই। কিন্তু বাধ সাধল এই ছবির নীচে লেখা কথাটি। আসলে যে এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঠিক কী বলতে চাওয়া হল বা বিজ্ঞাপনের আসল ক্যাচলাইনটাই বা কী, সেটা কারোর নজর কিন্তু এড়ায় নি। এবার আমূলের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে তৃণমূল কী বলছে দেখা যাক!

আজ জন্মাষ্টমী। এদিন নিজের ছন্দেই আমূল বাংলা’র তরফে সকলকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। শুভেচ্ছা জানাতে আধখাওয়া মাখনের ছবি দিয়েছে আমূল। আর এর নীচে লেখা, ‘কেষ্ট বেটাই চোর’। জন্মাষ্টমীতে এই মাখন চোর বলতে ‘কেষ্ট’ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণকেই যে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তা জানা কথা। অন্তত তেমনটাই তো হওয়ার। কিন্তু এর মধ্যে যেন রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন কেউ কেউ।

আসল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল ‘কেষ্ট’ নামেই পরিচিত। আর সেই ‘কেষ্ট’ অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলকে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাই অনেকেরই মত, আমূলের ওই বিজ্ঞাপন আসলে দ্বৈত অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ সুকৌশলেই যে এমনটা করা হয়েছে, এমনটাই মত অনেকের।

তবে এই বিজ্ঞাপন ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল। এই নিয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “মাখন তৈরির গুজরাটি সংস্থা একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। গুজরাট থেকে যে ধরনের রাজনীতি হচ্ছে তার মধ্যে একটা সংস্থা যদি ঢুকে যায় সেটা ঠিক নয়। আমি কারও পক্ষে বা বিপক্ষে বলছি না। কিন্তু যেভাবে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাতে রবীন্দ্রনাথের কাজকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা না জানে রবীন্দ্রনাথ, না জানে বাংলা। রবীন্দ্রনাথের ‘পুরাতন ভৃত্য’ থেকে একটি লাইন নিয়ে কটাক্ষ করে লিখেছেন। যে কারণে এটা করা হয়েছে তার সঙ্গে এই লাইন যেতে পারে না। যারা এটা করলেন তাদের অনুবাদকরা বলে দেননি বাংলা সাহিত্যের একটা গভীরতা আছে। এভাবে ব্যবহার করা যায় না”।

“যার সম্পর্কে এটা রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, এই চরিত্রটা সমালোচিত হয় আবার নিন্দিতও হয়। নিজে কিছু চায় না। কিন্তু অন্ধ আনুগত্য রয়েছে। বিপদের দিনে, চরম অসুস্থতার দিনে, অন্যের বিপদে আনুগত্যের প্রমাণ দিয়ে গিয়েছে সেখানে এই চরিত্রকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে বিকৃত করে ব্যবহার করা চরম ভুল। আমরা নিন্দা করছি। এটা সস্তা মানসিকতা। যে বাতাবরণে এই লাইনটি ব্যবহার করা হল আমি তাদের বলছি যদি শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এটা বলা হয় তাতে অসুবিধা নেই। যদি রাজনৈতিক হাওয়া দেওয়া হয় তবে আনুগত্যের প্রতীকের লাইনও মনে করিয়ে দেব। কারণ, মনে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতার আরেকটা লাইন রয়েছে। যত পায় বেত না পায় বেতন তবু না চেতন মানে”।

Related Articles

Back to top button