রাজ্য

নজিরবিহীন ঘটনা! উপাচার্যের ঘরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় কথা, ‘চড়’ মারার হুমকি তৃণমূল নেতার, মিলল না পুলিশের সাহায্যও, উত্তপ্ত পরিস্থিতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

উপাচার্যকে ঘেরাও করে বিক্ষোভের ঘটনা রাজ্যে নতুন কিছু নয়। কখনও যাদবপুর তো কখনও আবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, এমন ঘটনা বারবার ঘটতে দেখা গিয়েছে। তবে এবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কাণ্ড ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন বলা যেতে পারে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালাল একদল যুবক। অকথ্য ভাষায় কথা বলল উপাচার্যের সঙ্গে। শুধু তাই-ই নয়, উপাচার্যকে চড় মারার হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। অভিযোগ, যে যুবককে এমন হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে, সে আসলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছবি বাংলার শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে যে উপাচার্য মহম্মদ আলির ঘরে ঢুকে কার্যত তাঁকে শাসানো হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল নামে ওই যুবক যিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা হিসেবে পরিচিত, তাঁকে কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়, এমনটাই জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সম্প্রতি জানা যায় যে উপাচার্য মহম্মদ আলির কাজের মেয়াদ বাড়তে চলেছে। এ কথা শুনেই উপাচার্যের ঘরে গিয়ে চড়াও হন ওই বহিষ্কৃত ছাত্র নেতা।

উপাচার্য মহম্মদ আলি জানান যে তিনি পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন করেছিলেন কিন্তু কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। তাঁকে কোনও রকমের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। একজন উপাচার্য এমন অভিযোগ জানানোর পরও কেন প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিল না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, “তৃণমূল কোনও আপত্তিকর ঘটনাকে সমর্থন করবে না। এই ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে”।  তবে গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে তৃণমূল কর্মী বলে মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

তাঁর পাল্টা দাবী, বহিরাগত কিছু লোকজন এমন কাজ করেছে। গিয়াসউদ্দিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কেউ নন বলে দাবী তাঁর। তিনি এও দাবী করেন যে গিয়াসউদ্দিন আসলে তৃণমূল ছাত্রনেতা কবিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ। এই কবিরুল পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে যোগ দেন বিজেপিতে। তবে গিয়াসউদ্দিন কিন্তু এখনও তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত।

রাজ্যের শিক্ষা মহলে এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। অধ্যাপক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটাই এখন বাংলার সংস্কৃতি”। তিনি এও দাবী করেছেন যে এসবের পিছনে শাসক দলের মদত রয়েছে।

Related Articles

Back to top button